ফরাসি ফুটবলে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত এক নতুন অধ্যায়। দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ যুগের অবসান ঘটিয়ে দলটির প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়া জিনেদিন জিদানের অভিষেক ম্যাচটি রোমাঞ্চ ও উদ্বেগের এক অদ্ভুত মিশ্রণে মোড়ানো ছিল। নেশন্স লিগের ম্যাচে তুরস্কের মাঠে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় দিয়ে ফরাসিরা নিজেদের মিশন শুরু করলেও, এই আনন্দের মাঝেই বড় এক ধাক্কা খেয়েছে দলটি। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করার পরপরই হাঁটুর চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই গুরুতর চোটের কারণে চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্সের জার্সিতে আর মাঠে নামা হচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদ তারকার। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, স্কোয়াড ছেড়ে অবিলম্বে মাদ্রিদে ফিরে যাচ্ছেন তিনি এবং ক্লাব চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী অন্তত তিনটি ম্যাচেই দলের এই আক্রমণভাগের ভরসাকে ছাড়াই খেলতে হবে ফরাসিদের।
তুরস্কের মাঠে ম্যাচের প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের দারুণ সব আক্রমণ সামলাতে রীতিমতো ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে। চতুর্থ মিনিটে ইলমাজের প্রচেষ্টা ঠেকানোর পর, ২৮ মিনিটে কাদিয়োগ্লুর একটি জোরালো শট ফিরিয়ে দিয়ে দলকে নিশ্চিত পতন থেকে বাঁচান গোলরক্ষক মাইক মাইনান। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য খেলায় নিয়ন্ত্রণ নেয় সফরকারীরা। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মাইকেল ওলিসের একটি শট তুর্কি গোলরক্ষক প্রতিহত করলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডেডলক ভাঙে।
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য। জুলস কুন্দে ও শেরকির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান ওলিসে, আর তাঁর নিখুঁত পাস থেকে দারুণ এক শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তাঁর রেকর্ড গড়া ৬৭তম গোল। কিন্তু জালের বল জড়ানোর আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্কে। শট নেওয়ার সময় বাঁ হাঁটু অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে যাওয়ায় মাঠে ব্যথায় লুটিয়ে পড়েন এমবাপ্পে। শত চেষ্টার পরও খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় ৫৯ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ জিদান, আর তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তরুণ দেজিরে দুয়ে।
ম্যাচ শেষে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম টিএফওয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পেকে নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান ফরাসি বস। দলের অন্যতম সেরা তারকাকে নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কোচ জিদান বলেন, ‘পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। দুর্ভাগ্যবশত মনে হচ্ছে তাকে এখনই বাড়ি ফিরে যেতে হবে। আমরা বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে চাই না। শট নেওয়ার মুহূর্তে সে তার হাঁটু অতিরিক্ত প্রসারিত করে ফেলেছিল, যা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।’

দলের প্রধান তারকাকে হারিয়ে ধাক্কা খেলেও ম্যাচের বাকি সময় আক্রমণ ধরে রাখার চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে, ৮৮ মিনিটে তুর্কি গোলরক্ষক উগুরকান চাকির ডি-বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল প্রতিহত করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের ইনজুরির বেদনা আর শঙ্কা সঙ্গী হলেও, দারুণ এক জয়ে ফরাসি ডাগআউটে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন জিনেদিন জিদান।


















