ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন

জ্বালানি সংকটের শঙ্কা! ১২০ ডলার ছাড়িয়ে তেলের দামে নতুন রেকর্ড

রমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং ইরান নীতি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি রেকর্ড।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরাসরি সামরিক হামলার চেয়ে এই অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ বেশি কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করছে

ট্রাম্পের দাবি, অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন গুরুতর চাপে রয়েছে এবং দেশটির পরিস্থিতি “শ্বাসরুদ্ধকর” অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে এই অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত রাখা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। প্রতিদিন বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে।

জেফরি স্যাকস সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সংকট অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া তারা কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনায় যাবে না এবং প্রয়োজন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। তথ্যসূত্র : গালফ নিউজ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ