ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ন

৪৭০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ মামলার মুখোমুখি বিএইচপি

ব্রাজিলের ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের অন্যতম ধরা হয় মারিয়ানা বাঁধের ধস।

ব্রাজিলের ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের অন্যতম ধরা হয় মারিয়ানা বাঁধের ধস। ২০১৫ সালের ওই ঘটনায় গতকাল লন্ডন হাইকোর্টে শুনানির মুখোমুখি হয় মাইনিং জায়ান্ট বিএইচপি। এ মামলায় ভুক্তভোগীরা ৩ হাজার ৬০০ কোটি পাউন্ড বা ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। খবর রয়টার্স।

বিএইচপি ও খনিজ সম্পদ খাতের আরেক কোম্পানি ভ্যালের যৌথ মালিকানাধীন সামারকো কোম্পানিকে দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের এ বাঁধ ধসের জন্য দায়ী করা হয়। মামলায় বাদী পক্ষে রয়েছে ছয় লাখের বেশি স্থানীয় অধিবাসী, ৪৬টি স্থানীয় সরকার ও প্রায় দুই হাজার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

বাঁধধসের কারণে স্থানীয় জলধারায় টেলিং নামে পরিচিত খনিজ বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষাক্ত তরলের কারণে ১৯ জন নিহত হন। গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। বনাঞ্চলে প্লাবনের পাশাপাশি ডোস নদীর বড় একটি অংশ দূষণের শিকার হয়। এ নদী আদিবাসী গোষ্ঠী ক্রেনাকদের কাছে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাজারমূল্যের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম খনি কোম্পানি বিএইচপি। তাদের বিরুদ্ধে লন্ডনের করা মামলা ইংলিশ আইনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ক্ষতিপূরণের মামলা। এরই মধ্যে একই বিষয়ে ব্রাজিলে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা, যা রায়কে প্রভাবিত করতে পারে।

নিজেদের দায় স্বীকার করে বিএইচপি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রেনোভা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ৮০০ কোটি ডলার দেয়া হয়েছে। খনি শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বিএইচপি, ভ্যালে ও সামারকোর সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে ব্রাজিল সরকার।

অবশ্য যুক্তরাজ্যে দাবিদারদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনি সংস্থা পোগাস্ট গুডহেড বিবৃতিতে বলেছে, লন্ডনের স্থানীয় আইনে করা মামলাটি ‘সত্যিকারার্থে বিএইচপিকে জবাবদিহি করানোর একমাত্র উপায়।’

পোগাস্ট গুডহেডের সিইও টম গুডহেড বলেছেন, ‘মামলাটি অবশেষে বিএইচপিকে মেনে নিতে বাধ্য করেছে যে তাদের ব্রাজিলে আরো কিছু করার দরকার ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত চুক্তিটি শুধু ক্ষতির অর্ধেক বিবেচনা করেছে।’

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ