ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ন

দুর্নীতিতে ডুবছে সিমটেক্স, পর্ষদ পুর্গঠনের দাবি

নানা অনিয়মের কারণে ডুবতে বসেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দুর্নীতিবাজ পরিচালক ও কর্মকর্তারা কোম্পানিকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করে ফেলেছে। তাই বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পূর্ণগঠনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে।

ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংকিং খাতের আলোচিত দুর্নীতিবাজ পিকে হালদারের সহযোগী সিদ্দিকুর রহমান ও তার ছেলে নিয়াজ রহমান সাকিব কোম্পানিটিকে দখল করে। এরপর থেকেই কোম্পানি থেকে অর্থ পাচার শুরু করে। খোদ বিএসইসির তদন্তেও সিমটেক্সের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, সিদ্দিকুর রহমান ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবের একক স্বাক্ষরকারী। লেনদেনের কোন সীমা ছাড়াই তিনি ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারতেন। এ সুযোগে তিনি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৪৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করলেও বিভিন্ন বিল পরিশোধ করেছেন মাত্র ২৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকার। অর্থাৎ কোম্পানিটির প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পাচার করা হয়েছে।

বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলায় দুদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, তার স্ত্রী মাহফুজা রহমান, দুই ছেলে নিয়াজ রহমান সাকিব (সিমটেক্সের বর্তমান এমডি) এবং ইসতিয়াক রহমান ইমরান, তার ভাই মো. এনসান আলী শেখ।

ফলে আদালত এই ব্যক্তিদের সিমটেক্সের শেয়ারহোল্ডিং জব্দ করার নির্দেশ দেন। এছাড়া পৃথক আদেশে আদালত মো. সিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী মাহফুজা রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

সিমটেক্সের পূর্বের চেয়ারম্যান লেঃ কর্নেল (অবঃ) মোঃ আনিসুর রহমানকে বাদ দিয়ে যে মেজর জেনারেল (অবঃ) মোঃ সারোয়ার হোসেনকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর করে চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে, সেটিও আইন অনুযায়ী সঠিক হয়নি। বিএসইসি করপোরেট গর্ভনেন্স কোড ১০.০৬.২০১৮ অনুযায়ী মোঃ সারোয়ার হোসেন কোনভাবেই সিমটেক্সে একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাইরেক্টর হিসেবে থাকতে পারেন না।

চিঠিতে বলা হয়, ইতিপূর্বেই বিএসইসি সিমটেক্সের নানা অনিয়ম তদন্ত করে ৫৬ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য সেখানে পাঁচ জনের একটি বোর্ড নিয়োগ করেন। কিন্তু পিকে হালদারের সহযোগী পলাতক সিদ্দিকুর রহমান পর্তুগাল থেকে সকল চাবিকাঠি নারছে। আর এখানে তার ছেলে নিয়াজ রহমান সাকিব একজন অবৈধ এমডি কোর্টের সেই আদেশকে সাময়িকভাবে স্টে করে দেয়। বিএসইসিতে তা মোকাবিলা করে এবং মহামান্য আদালত ৫৬ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে বোর্ড পুর্ণগঠনের নির্দেশ প্রদান করেন। কাজেই মোঃ সারোয়ার হোসেনের সেখানে থাকার আর কোন সুযোগ রইলো না।

নিয়াজ রহমান সাকিব সরাসরি পিকে হালদারের সঙ্গে ব্যবসা বানিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তিনি বর্তমানে যে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি সেই সিমটেক্সের তার নামের সকল শেয়ার ফ্রিজ রয়েছে। সুতরাং নৈতিকতার বিচারে সে সিমটেক্সের ডাইরেক্টর ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর পদে থাকার আর কোন অধিকার রাখে না।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ