ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

৯২ বছরের ইতিহাস ভাঙল কাতার

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই ভাঙল বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাস। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দল প্রথম ম্যাচে হারেনি। অবশেষে গতকাল কাতার নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইকুয়েডরের বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছে। এ হারের মধ্য দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে ৯২ বছরের ইতিহাস ভাঙল স্বাগতিক দেশটি। এর আগে স্বাগতিকদের মধ্যে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেয়া একমাত্র দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই দক্ষিণ আফ্রিকাও ২০১০ সালে জোহানসবার্গে ড্র করেছিল। এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন কাতার সেখানে স্বাগতিকদের এত দিনের রেকর্ড বজায় রাখতে পারেনি।

গতকাল রোববার আল বায়াত স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ উদ্বোধনের করতালি তখনো শেষ হয়নি। এরমধ্যেই ইকুয়েডরের গোলের উল্লাস। প্রথমার্ধে অধিনায়ক এন্নার ভ্যালেন্সিয়ার জোড়া গোল একুয়েডরের জয় নিশ্চিত করে দেয়। একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) বাতিল না করলে হ্যাটট্রিকও হয়ে যেত তার। ম্যাচের শুরু থেকেই কাতারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে একুয়েডর। তারই ধারাবাহিকতায় ভ্যালেন্সিয়া হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। যদিও গোলটি বাতিল করে দেয় ভিএআর। দুঃখ লাঘব করতে অবশ্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। ১৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে একুয়েডরকে এগিয়ে দেন তিনি। ৩১ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া আবারো লক্ষ্যভেদ করলে প্রথমার্ধেই একুয়েডরের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও কাতারকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। এমনকি পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে মাত্র দুবার বল স্পর্শ করতে পেরেছে স্বাগতিকরা!

নকআউট পর্বে যেতে পরের দুই ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই কাতারের সামনে। ২৫ নভেম্বর দোহার আল থুমামা স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফ্রিকান দেশ সেনেগালের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। ওইদিন একুয়েডর লড়বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। কাতারের শেষ ম্যাচে আরো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ২৯ নভেম্বর আল বাইত স্টেডিয়ামে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে মেরুনরা।

বিশ্বকাপে এবারই প্রথম খেলছে কাতার। আগে কখনই বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি তারা। এবার বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে বৈশ্বিক আসরে খেলার টিকিট পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট এ দেশটি। তবে প্রথম আসরে শুভসূচনা পেল না ফেলিক্স সানচেজের দল। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে এটা একুয়েডরের চতুর্থ অংশগ্রহণ। ২০০২ সালে প্রথমবার খেলেছে তারা বৈশ্বিক আসরে। বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য শেষ ষোলো। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে তারা উঠেছিল নকআউট পর্বে। প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে কাতারেও নকআউটে ওঠার সুযোগ তৈরি করলেন ভ্যালেন্সিয়ারা।

পুরো ম্যাচে রেফারি মোট ৬ বার হলুদ কার্ড দেখান দুই দলের খেলোয়াড়দের যা কি না ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের বলিভিয়া ও জার্মানির উদ্বোধনী ম্যাচের ৭টি হলুদ কার্ডের পর সর্বোচ্চ। কাতারের এই হারে স্বাগতিক দেশের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকার ধারা ক্ষুণ্ণ হলো। এর আগের ২২টি ম্যাচে স্বাগতিকরা ১৬টি জয় এবং ৬টি ড্র করেছিল তাদের প্রথম ম্যাচে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ