দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়নে পেশাজীবী সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে রাজধানীতে যৌথ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: নিরীক্ষা, প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পেশাজীবী সংস্থাগুলোর ভূমিকা’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিএবি, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি), ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ (আইআইএবি) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসিসিএ)।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসকো) উদ্যোগে ৫ থেকে ১১ অক্টোবর বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ পালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবির প্রেসিডেন্ট সাব্বীর আহমেদ এফসিএ এবং সমাপনী বক্তব্য দেন আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট কাউসার আলম এফসিএমএ। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এসিসিএর কান্ট্রি ম্যানেজার প্রমা খান এফসিসিএ, আইআইএবির প্রেসিডেন্ট এম. নুরুল আলম এফসিএস এবং আইসিএসবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান এফসিএস।

আলোচনায় মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পেশাগত জবাবদিহিতার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা, বিনিয়োগের মৌলিক বিষয় এবং তরুণ ও নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগকারীদের শিক্ষার বিষয়গুলোও উঠে আসে।
আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফুর রহমান এফসিএ ‘বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আইসিএবির ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, তদারকিতে পরিচালনা পর্ষদ এবং নিরপেক্ষ নিশ্চয়তা প্রদানে নিরীক্ষকদের পৃথক দায়িত্ব রয়েছে। বাজারের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে শক্তিশালী সুশাসন ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবন্ধে আর্থিক তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ডিভিএস-ভিত্তিক আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইকরণ, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আইসিএবির সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, আইসিএমএবির কাউন্সিল সদস্য আরিফ খান এফসিএমএ ‘তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে করপোরেট আস্থা পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আইপিও অনুমোদনের দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা, কম মূল্যায়ন, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত নথিপত্র, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের দুর্বল আস্থাকে নতুন তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়, পূর্বাভাসযোগ্য নীতিমালা, বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ, প্রণোদনা, দ্রুত অনুমোদন এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ আইপিও কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন, উন্নত নিরীক্ষা ব্যবস্থা, ন্যায্য মূল্যায়ন, সুশাসন ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেশাজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন করা সম্ভব।
সম্মেলনটি পেশাজীবী সংস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা জোরদার, বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।


















