ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ন

জাপানে নারী হত্যার অভিযোগে মার্কিন নৌসেনা গ্রেপ্তার

জাপানের ওকিনাওয়ায় একটি হোটেলে নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার সন্দেহে এক মার্কিন নৌসেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে নিহত নারীর পরিচয় ৩৯ বছর বয়সী ইয়াগি আন্না হিসেবে জানিয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযুক্ত নৌসেনার নাম ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড। ২০ বছর বয়সী ডেভিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের ফুতেনমা বিমানঘাঁটিতে কর্মরত।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে ‘নৃশংস ও জঘন্য’ ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আরও কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মেরিন কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘একজন নৌসেনার গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছি।’ একই সঙ্গে নিহত নারীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে তারা।

শনিবার ভোরে ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায় বলে জানান জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কোইজুমি লিখেছেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয় এবং এটি আমাকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে জড়িত ঘটনা ও দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে এবং এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটার কথা নয়।’

টোকিওতে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা জাপান সরকার ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে। ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার জন্য রোববার জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে তলব করেছিল জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ওকিনাওয়া জাপানের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ঘাঁটিগুলোতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনাও অবস্থান করছেন।

ওকিনাওয়ার গভর্নর জেনতা কোজা জানান, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষ বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। এ ধরনের অপরাধ মার্কিন সেনাদের মধ্যে শৃঙ্খলার ঘাটতিরই ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করেন তিনি।

গভর্নর আরও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আবারও হওয়ায় এটা বুঝা যাচ্ছে যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং এ ধরনের অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রচেষ্টা পুরোপুরি অকার্যকর।’

ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাসদস্যকে ঘিরে এটি সর্বশেষ ঘটনা। জাপানে কর্মরত প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন সেনার অর্ধেকের বেশি ওকিনাওয়ায় অবস্থান করেন।

এর আগেও সেখানে মার্কিন সেনাদের জড়িত বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। সে সময় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল।

শুধু ২০২৪ সালেই ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের জড়িত চারটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ব্রেনন ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ ছিল। এ ঘটনায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ