ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ন

এআই চ্যাটবটকে যেসব বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে ক্রমেই যুক্ত হচ্ছে। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি, ক্লড ও কোপাইলটের মতো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে তথ্য খোঁজা, পড়াশোনা, কাজের সহায়তা, পরামর্শ এমনকি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা করছেন অনেকে।

রান্নার রেসিপি খোঁজা থেকে শুরু করে কোড লেখা, কাজের পরিকল্পনা তৈরি, সম্পর্ক নিয়ে পরামর্শ কিংবা মানসিক সহায়তা—বিভিন্ন প্রয়োজনে এআইয়ের ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে।

২০২৫ সালে হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউতে প্রকাশিত এক গবেষণাতেও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে থেরাপি ও মানসিক সহায়তার বিষয়টি উঠে আসে। ফলে কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আবেগসংক্রান্ত নানা বিষয়েও এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার প্রবণতা বাড়ছে।

তবে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার প্রশ্ন। চ্যাটবট অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল বা কাল্পনিক তথ্য দিতে পারে। আবার ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে তৈরি হতে পারে গোপনীয়তার ঝুঁকি। চিকিৎসা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও ভুল পরামর্শের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মানসিক সুস্থতার কথা বিবেচনায় এআই চ্যাটবটে নিচের ছয় ধরনের প্রশ্ন বা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

১. ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সম্পর্কিত প্রশ্ন

চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনি, গ্রোক বা ডিপসিকের মতো এআই চ্যাটবট কখনো ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা পুরোপুরি বানানো তথ্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এ ধরনের ভুল তথ্যকে সাধারণত ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মতো অস্পষ্ট ও বিতর্কিত বিষয়ে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। কোনো একটি ধারণা যথাযথভাবে যাচাই না করেই চ্যাটবট সেটিকে আরও বিস্তারিত কিংবা নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

২. রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক হুমকি

রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এক এআই ব্লগার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দাবি করেন, তিনি চ্যাটজিপিটিকে ওয়েবসাইট হ্যাক, ভুয়া জিপিএস অবস্থান তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত বোমা তৈরির বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। এরপর ওপেনএআই থেকে তিনি সতর্কতামূলক ই-মেইল পেয়েছিলেন বলেও জানান।

এ ধরনের বিষয়ে কেবল কৌতূহলবশত প্রশ্ন করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মডেল যেন রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা না করে, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করছে।

৩. গুরুতর অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড

এআই চ্যাটবটের নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। ফলে গুরুতর অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে করা কোনো প্রশ্নকে সব সময় সাধারণ কথোপকথন হিসেবে দেখা নাও হতে পারে।

নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক পরিস্থিতিতে ক্লড গুরুতর অন্যায়ের সম্ভাবনা শনাক্ত করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপও নিতে পারে।

৪. রোগী, গ্রাহক বা ক্লায়েন্টের গোপন তথ্য

কর্মক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি বা অন্য কোনো এআই টুল ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য দেওয়া বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ব্যবস্থা ও নীতিমালায় স্পষ্ট অনুমতি না থাকলে রোগীর মেডিকেল রেকর্ড, ক্লায়েন্টের ব্যক্তিগত তথ্য, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড, লগইন তথ্য, ব্যবসায়িক গোপন নথি কিংবা চুক্তির আওতাধীন তথ্য চ্যাটবটে শেয়ার করা উচিত নয়।

৫. চিকিৎসা নির্ণয় বা রোগের ডায়াগনোসিস

অনেকে বিভিন্ন উপসর্গের ভিত্তিতে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা পেতে এআই চ্যাটবটের সাহায্য নেন। এতে প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য বোঝা সহজ হলেও চ্যাটবটের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে নিজে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ।

এআই ভুল তথ্য দিতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ কোনো উপসর্গ বাদ দিতে পারে কিংবা একই ধরনের উপসর্গের একাধিক সম্ভাব্য কারণের মধ্যে ভুল কারণকে সামনে আনতে পারে।

৬. মানসিক স্বাস্থ্য ও থেরাপি

মানসিক স্বাস্থ্যে এআইয়ের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। অনেকের কাছে এটি সহজলভ্য এবং তুলনামূলক কম খরচের সহায়তার মাধ্যম হতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে এআই প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর বিকল্প।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু এআই থেরাপি চ্যাটবট নির্দিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষতিকর স্টেরিওটাইপ বা স্টিগমা তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়াও দিতে পারে।

বিশেষ করে আত্মহত্যার চিন্তা, গুরুতর মানসিক সংকট, সাইকোসিস বা অন্য কোনো জটিল মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে শুধু চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ