আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের দরপতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ১৯ মার্চ এক দিনেই দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল, রোববারও (২২ মার্চ) সেই নির্ধারিত দামেই বাজারে কেনাবেচা চলছে। দুই দফায় ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা কমানোর ফলে এখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।
সবশেষ নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা আগে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা ছিল। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় নেমে এসেছে।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় কেনা যাচ্ছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি অনুযায়ী প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের ঘর থেকে বড় পতনের মাধ্যমে ৪ হাজার ৬৮০ ডলারে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনায় মাসের শুরুতে দাম বাড়লেও বর্তমানে তা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। এই বৈশ্বিক প্রভাবের কারণেই দেশের বাজারে ১৯ মার্চ এক দিনেই দুইবার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস যেখানে প্রথম দফায় সকালে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেলে আরও ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়।
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে যার মধ্যে ১৯ বার দাম কমানোর ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগ মুহূর্তে স্বর্ণের এই বড় দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কিছুটা কমায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।



















