দেশে দুই দিনের চার দফা ভূমিকম্পে বরিশাল মহানগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক তথ্য না মিললেও পরবর্তী সময়ে নগরীর বেলতলা এলাকায় একটি ভবন পাশ্ববর্তী আরেকটি ভবনের ওপর হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে খোদ নগর ভবনের তৃতীয় তলায় প্রকৌশল বিভাগের একটি কক্ষের ছাদের পলস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকায় নগর ভবনের কেউ কিছু টের না পেলেও সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিস খোলার পরে বিষয়টি সবার নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে নগর ভবনের অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপরদিকে নগরীর বেলতলা এলাকায় পাঁচতলা ভবনটি পাশে নবনির্মিত চারতলা ভবনের ওপর হেলে পড়েছে দাবি করলেও পাঁচতলা ভবনের মালিকের দাবি—তার ভবন ঠিকই আছে, বরং পাশেরটাই হেলে পড়েছে। তবে বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার সকালে স্থানীয়রা মোতালেব মিয়ার পাঁচতলা ভবনটি পাশে সৌদি প্রবাসী জহির হাওলাদারের নবনির্মিত চারতলা ভবনের ওপর হেলে পড়েছে বলে দেখতে পান।
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার ও শনিবারের ভূমিকম্পের কারণেই ভবনটি হেলে পড়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে সোমবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালকের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, আমাদের কর্মকর্তাগণ এলাকাটি পরিদর্শন করছেন। এলাকাবাসীসহ বাড়ির মালিকগণ জানিয়েছেন, ভবনগুলো আগে যেভাবে ছিল এখনো সেভাবেই আছে। নতুন করে কিছু হয়নি।

প্রবাসী জহির হাওলাদারের ছেলে ফাখরুল হাওলাদার বলেন, পাশের ভবনটি উপর থেকে হেলে আমাদের ভবনের ওপর পড়ছে। এতে আমাদের ভবনের সেফটি ট্যাংকের পাইপ ভেঙে গেছে।
প্রবাসীর শ্বশুর কবির সিকদার বলেন, তারা ২০২৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে প্ল্যান নিয়ে চারতলা ভবনটি করেছেন। নকশা অনুযায়ীই ভবনটি করা হয়েছে।
তবে অপর ভবনের মালিক মো. মোতালেব মিয়া বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে তিনি ৪ তলার প্ল্যান অনুমোদন নিয়ে শুধু একপাশে একটি ইউনিট পাঁচতলা করেছেন। মোতালেব মিয়ার দাবি—তার ভবনটি নয়, বরং নতুন ভবনটি হেলে পড়ছে।
তবে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী দুটি ভবনের মাঝে যে ৪ ফুট করে ফাঁকা জায়গা রাখার কথা, তা কোনো ভবন মালিকই মানেননি।


















