কভিড মহামারীজনিত অর্থনীতি স্থবিরতার মুখে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদহার, ভোক্তা ব্যয় পতন ও সরকারি ঋণের বোঝা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের সংকট দেখেছে বিশ্ব।
কভিড মহামারীজনিত অর্থনীতি স্থবিরতার মুখে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদহার, ভোক্তা ব্যয় পতন ও সরকারি ঋণের বোঝা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের সংকট দেখেছে বিশ্ব। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্য সুরক্ষানীতি। দুই ক্ষেত্রে দেশগুলো একক বা জোটবদ্ধভাবে বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করছে, যেখানে প্রধান বাধা হিসেবে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক আরোপ। গত কয়েক মাসে এ ধরনের একাধিক ঘটনা দেখা গেছে। আগামী মাস অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন নির্বাচন ঘিরেও একই ধরনের উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বিষয়গুলো এরই মধ্যে একাধিক ফোরামে আলোচিত হয়েছে।
‘বাণিজ্য বাধা ও বিধিনিষেধ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আটকে রাখে’ বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক গীতা গোপীনাথ জানান, বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ব হারাতে পারে ৭ শতাংশ জিডিপি।
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনর্নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার সময় এসব মন্তব্য এল। সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে সব ধরনের আমদানির ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বজনীন কর বা শুল্ক প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। এর বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করছে বলেও জানা গেছে।
গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘অভিধানে থাকা সবচেয়ে সুন্দর শব্দ হলো শুল্ক’। বিশ্ব বাজার ও বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীরা রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব সহকারে নিতে শুরু করেছেন।

আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুসারে, আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুধবার ইসিবিপ্রধান ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড কিছু উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নেতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। যখন দেশটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অন্যদের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর দেয়, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্ব উপকৃত হয়।
ক্রিস্টিন লাগার্ড বলেন, ‘আমরা এমন কোনো বিশ্বে নেই, যেখানে বাণিজ্য প্রয়োজন নেই বা হ্রাস পাচ্ছে। এর পরিবর্তে বাণিজ্য চলমান কিন্তু পরিবর্তনশীল। আমরা কার সঙ্গে বাণিজ্য করছি এবং কীভাবে আমরা ঝুঁকি নিচ্ছি, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। বাণিজ্যের এ চলমান প্রবণতায় বিভিন্ন অংশীদারদের সংযোগ ঘটে এবং নতুন উপায়ে ঘটছে।’
বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) খাতে এক দশকে শীর্ষ দেশ হিসেবে উঠে এসেছে চীন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ একাধিক অঞ্চল থেকে এ খাতে দেশটি বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোয়। যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ ও ইউরোপে ৪৮ শতাংশ পযন্ত শুল্ক আরোপ হয়েছে চীনা ইভির ওপর। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে বেইজিংও বসে নেই। একাধিক পণ্য আমদানিতে এরই মধ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।


















