ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ন

এক-দশমাংশ কর্মী ছাঁটাই করছে বোয়িং

একের পর এক সমস্যায় বিপর্যস্ত উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্ট বোয়িং ১৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে, যা মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর এক-দশমাংশ। তবে বিস্তারিত ঘোষণা না এলেও সিদ্ধান্তটি কর্মীদের

একের পর এক সমস্যায় বিপর্যস্ত উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্ট বোয়িং ১৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে, যা মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর এক-দশমাংশ। তবে বিস্তারিত ঘোষণা না এলেও সিদ্ধান্তটি কর্মীদের অবহিত করা হয়েছে। খবর বিবিসি।

সুরক্ষা প্রশ্নে বছরের শুরুতে ধাক্কা খায় বোয়িং। ওই সমস্যার সমাধান না হয়ে ক্রমে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। একাধিক তদন্ত ও জরিমানার মুখে পড়ে কোম্পানিটি। এর মধ্যে মাসখানেক ধরে ৩৩ হাজারের মতো কর্মী ধর্মঘটে যাওয়ায় সরবরাহ চেইনে সংকট আরো প্রকট হয়।

ছাঁটাই প্রসঙ্গে কর্মীদের কাছে পাঠানো ই-মেইলে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গ জানান, কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। চাকরির ঝুঁকিতে রয়েছেন নির্বাহী, পরিচালক ও কর্মী সবাই।

চলতি বছরের শুরুতে মাঝ আকাশে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের দরজা ছিটকে পড়ে। এরপর থেকে বোয়িংয়ের সরবরাহ চেইন ধীর হয়ে গেছে। এছাড়া অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে কোম্পানিটি। পিছিয়ে দেয়া হয়েছে অতিপ্রত্যাশিত ৭৭৭এক্স সিরিজের সরবরাহ শুরুর তারিখ। সব মিলিয়ে পরিচালন ও অর্থায়ন সমস্যায় ভুগতে থাকা কোম্পানিটি কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেলি অর্টবার্গ কর্মীদের দেয়া বার্তায় জানান, সামনের মাসগুলোয় ছাঁটাইয়ের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। শিগগিরই ছাঁটাই প্যাকেজ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানানো হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার বিদ্যমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন।’

চাকরি কমানোর পাশাপাশি ৭৭৭এক্সের উৎপাদন বিলম্বিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন কেলি অর্টবার্গ। তিনি জানান, এ উড়োজাহাজ তৈরিতে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে কোম্পানি। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট পরীক্ষা স্থগিত হওয়া ও চলমান ধর্মঘট।

এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রাহককে জানিয়েছি ২০২৬ সাল নাগাদ প্রথম দফায় সরবরাহে যাওয়ার আশা করছি আমরা।’

বড়সংখ্যক কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় আলোচনায় রয়েছে বোয়িং। শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মীরা ৪০ শতাংশসহ বেতনসহ নতুন চুক্তিতে একাধিক সুবিধা চান। প্রাথমিক সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়াতে রাজি হয় বোয়িং। কিন্তু কর্মী ও তাদের সংগঠন থেকে ইতিবাচক কোনো বার্তা না পেয়ে নিজেদের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে এ জায়ান্ট।

বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি সম্প্রতি বোয়িংকে ক্রেডিটওয়াচে রেখেছে। এর অর্থ কর্মীরা যদি ধর্মঘট আরো লম্বা সময় টেনে নেন, তবে এ উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারকের রেটিং আরো কমে যেতে পারে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ