ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের থেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে কখন, কোথায় কী করছেন, কোন ওয়েবসাইট দেখছেন কিংবা কোন অ্যাপ ব্যবহার করছেন এসব তথ্যের কিছু অংশ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতে পারে। কুকিজ, ট্র্যাকিং পিক্সেল ও ডিভাইস শনাক্ত করার পদ্ধতি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে। অন্যদিকে, অ্যাপের অতিরিক্ত পারমিশন, দুর্বল পাসওয়ার্ড কিংবা অসুরক্ষিত নেটওয়ার্ক ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শুধু ব্রাউজিং হিস্ট্রি মুছে ফেলা বা ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করলেই এসব ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা যায় না। তবে ফোন ও ব্রাউজারের কিছু সেটিংস পরিবর্তন এবং সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে তথ্যের সুরক্ষা বাড়ানো সম্ভব।

১. ব্রাউজারের গোপনীয়তা সেটিংস ঠিক করুন
ওয়েবসাইটগুলো কুকিজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ, লগইন অবস্থা ও ব্রাউজিং-সংক্রান্ত কিছু তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। তাই ব্রাউজারের প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে থার্ড-পার্টি কুকিজ সীমিত বা বন্ধ করার সুযোগ থাকলে তা ব্যবহার করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো কুকিজ ও সাইটের ডাটাও মুছে ফেলতে পারেন। পাশাপাশি, গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেয় এমন সার্চ ইঞ্জিন বেছে নিন এবং অন্যের ডিভাইসে নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে কাজ শেষে লগআউট করুন। মনে রাখবেন, ইনকগনিটো মোড মূলত নিজের ডিভাইসে ব্রাউজিংয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ সীমিত করে; এটি ওয়েবসাইট, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী বা কর্মস্থলের নেটওয়ার্কের কাছ থেকে সব কার্যকলাপ আড়াল করে না।

২. অ্যাপের পারমিশন নিয়মিত পরীক্ষা করুন
অনেক অ্যাপ কাজের প্রয়োজনে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, কন্টাক্ট, ছবি বা লোকেশনের অনুমতি চায়। কিন্তু সব অ্যাপের এসব তথ্য প্রয়োজন হয় না। ফোনের সেটিংসে গিয়ে অ্যাপ পারমিশন পরীক্ষা করুন এবং অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করে দিন। সম্ভব হলে লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি শুধু অ্যাপ চালানোর সময়ের জন্য দিন। দীর্ঘদিন ব্যবহার করছেন না, এমন অ্যাপ মুছে ফেলুন। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপ্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার কমানো সম্ভব।

৩. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
ক্যাফে, হোটেল, বিমানবন্দর কিংবা অন্যান্য জনসমাগমস্থলের বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই সুবিধাজনক হলেও সব নেটওয়ার্ক সমান নিরাপদ নয়। অচেনা নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে মোবাইল ডাটা বা বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। ওয়াই-ফাইয়ের নাম পরিচিত মনে হলেই সেটিকে নিরাপদ ধরে নেবেন না। প্রয়োজন হলে নেটওয়ার্কের সত্যতা যাচাই করে সংযোগ স্থাপন করুন।

৪. ভিপিএন ব্যবহারের আগে নীতিমালা জানুন
ভিপিএন ইন্টারনেট সংযোগের ট্র্যাফিক এনক্রিপ্ট করতে এবং ওয়েবসাইটের কাছে আপনার প্রকৃত আইপি ঠিকানার বদলে ভিপিএন সার্ভারের ঠিকানা দেখাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ভিপিএন ব্যবহার করলেই অনলাইনে সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকা যায় না। পরিষেবা প্রদানকারী আপনার কিছু কার্যকলাপের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। তাই ভিপিএন বেছে নেওয়ার আগে তার গোপনীয়তা নীতি, তথ্য সংরক্ষণের নিয়ম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করুন। ব্যক্তিগত বার্তা ও নথির জন্য নির্ভরযোগ্য, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনসমর্থিত পরিষেবা ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৫. লোকেশন ও সফটওয়্যার আপডেটের দিকে নজর দিন
সব সময় জিপিএস বা লোকেশন চালু রাখার প্রয়োজন নেই। যেসব অ্যাপের অবস্থান জানার দরকার নেই, সেগুলোর লোকেশন পারমিশন বন্ধ রাখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লুটুথ ও অন্যান্য ওয়্যারলেস সংযোগও বন্ধ রাখতে পারেন। পাশাপাশি ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন। আপডেটের মাধ্যমে অনেক সময় নিরাপত্তার দুর্বলতা সংশোধন করা হয়। তাই সম্ভব হলে বিশ্বস্ত উৎস থেকে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা আপডেট চালু রাখুন।

৬. অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সতর্ক হোন
একই পাসওয়ার্ড একাধিক ওয়েবসাইটে ব্যবহার করলে একটি অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর অন্য অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা, দীর্ঘ ও অনুমান করা কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড মনে রাখতে বিশ্বস্ত পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কাজে লাগতে পারে। যেখানে সুবিধা রয়েছে, সেখানে দুই ধাপে পরিচয় যাচাই বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন। বিভিন্ন সাইটে একই ই-মেইল বা ইউজারনেম ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্টগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা সহজ হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সংযত থাকুন।

৭. ফোনের লক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্ত করুন
ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা, ইমেল ও অন্যান্য তথ্য অন্যের হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ঝুঁকি কমাতে শক্তিশালী পিন, পাসওয়ার্ড বা বায়োমেট্রিক স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন। অল্প সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেই স্ক্রিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হবে, এমন সেটিংস রাখুন। ফোনে স্টোরেজ এনক্রিপশন ও ডিভাইস খুঁজে পাওয়ার সুবিধা থাকলে সেগুলোও চালু রাখুন। অচেনা নম্বর বা ই-মেইল থেকে আসা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং অপরিচিত অ্যাটাচমেন্ট খুলবেন না। কোনো বার্তায় জরুরি ভিত্তিতে পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য চাওয়া হলে আলাদা করে যাচাই করুন।

অনলাইনে তথ্য সুরক্ষিত রাখতে একটি সেটিংস বদলানোই যথেষ্ট নয়। ব্রাউজার, অ্যাপ, অ্যাকাউন্ট ও ফোনের নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যালোচনা করার পাশাপাশি সন্দেহজনক লিঙ্ক এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত তথ্য কম শেয়ার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে অনলাইন ট্র্যাকিংয়ের কিছু ঝুঁকি কমানো এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা আরও মজবুত করা সম্ভব।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ