ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ন

দুদকের মামলার আসামি আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মনসুর মোস্তফা

নিজস্ব প্রতিবেদক | বিজনেস আই বাংলাদেশ

ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মনসুর মোস্তফা। ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ঋণ জালিয়াতির মামলাগুলোতে তাঁর নাম আসায় ব্যাংকটির পরিচালনা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মামলায় আসামি হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখন গুরুত্বপূর্ণ।

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকার ঋণের অভিযোগ

২০২৫ সালের ৪ জুন প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোর একটিতে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান গ্লোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের নামে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। অন্য মামলায় সার্ভ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের নামে প্রায় ৪৩৪ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার আসামিদের মধ্যে সৈয়দ মনসুর মোস্তফার নামও রয়েছে।

দুদকের অভিযোগের মূল বিষয় হলো, ভুয়া বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন, জাল কাগজপত্র ব্যবহার, পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া অর্থ ছাড় এবং পরে অর্থ স্থানান্তর ও পাচারের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত গন্তব্য আড়াল করা। এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।

‘আইএফআইসি আমার বন্ড’ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ

২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ‘আইএফআইসি আমার বন্ড’–সংক্রান্ত অর্থ আত্মসাতের মামলায় সৈয়দ মনসুর মোস্তফাকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে দুদকের অনুসন্ধানের বরাতে বলা হয়, শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেডের জমির মূল্যায়ন, বন্ডের অর্থ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৮৭ কোটি টাকার জমির মূল্য ১ হাজার ২০ কোটি টাকা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ এফডিআরে রাখা হলেও বাকি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সময় সৈয়দ মনসুর মোস্তফা আইএফআইসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও চিফ ক্রেডিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। [সূত্র: আপন দেশ, ২৩ জুলাই ২০২৬]

তবে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিবরণ। ঋণ ও বন্ডের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, কোন সিদ্ধান্তে তাঁর স্বাক্ষর ছিল এবং অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি কতটা অবগত ছিলেন—তা নির্ধারণে মামলার এজাহার, ঋণ অনুমোদনের নথি ও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ