ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ন

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে কেন ব্র্যাক ব্যাংক হতে পারে শক্তিশালী পছন্দ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি হতে পারে দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য আদর্শ বিনিয়োগ। বাজার যখন পতনের ধারায় থাকে তখন বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন, বেশিরভাগ শেয়ারের পতন ত্বরান্বিত হয়, সে সময় বোঝা কঠিন কোন শেয়ার হতে পারে আদর্শ বিনিয়োগ। সেক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

দীর্ঘমেয়াদে কোনো ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু শেয়ারের বর্তমান দাম নয়—লাভের ধারাবাহিকতা, ঋণের মান, মূলধন সক্ষমতা, এনএভি, আরওই, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা জরুরি। এসব সূচকে ব্র্যাক ব্যাংককে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৬২০.২ কোটি টাকা এবং ইপিএস ছিল ৩.১২ টাকা। একই সময়ে আরওই ছিল ১৫.৭১%, যা ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন থেকে ভালো রিটার্ন তৈরির সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

শক্তিশালী আমানত ঋণ ব্যবসা

২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল প্রায় ৭৭,৯৯৪.৮ কোটি টাকা, আর ঋণ ও অগ্রিম ছিল প্রায় ৬৪,৪৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটির মূল ব্যাংকিং ব্যবসার পরিধি বড় এবং আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য ভিত্তি রয়েছে।

এনএভি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ

জুন ২০২৫ শেষে ব্র্যাক ব্যাংকের এনএভি ছিল ৪১.২৩ টাকা প্রতি শেয়ার। বাজারদর যদি দীর্ঘমেয়াদে এনএভি-এর তুলনায় যুক্তিসংগত অবস্থানে থাকে, তাহলে মূল্যায়নের দিক থেকে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে। তবে শুধু এনএভি দেখে শেয়ার কেনা উচিত নয়। মূলধন সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভালো ব্যাংকটির Capital to Risk-Weighted Assets Ratio (CRAR) ছিল ১৪.৫০% জুন ২০২৫-এ। ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ঋণ সম্প্রসারণ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মূলধন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিজিটাল ও এসএমই ব্যাংকিংয়ে সম্ভাবনা ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবসায় এস এমই ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ওপর দীর্ঘদিনের গুরুত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং আর্থিক সেবার ডিজিটালাইজেশন যত বাড়বে, এই ব্যবসায়িক অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের  (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রাক ব্যাংক ৬১ টাকা ৯০ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে। সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকটির পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৭.৮১ পয়েন্ট; যা ব্যাংকটিতে বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।

লভ্যাংশ ও ইপিএস

কোম্পানিটির লভ্যাংশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত পাঁচ বছরে কোম্পানিটির লভ্যাংশ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১ ও ২০২২ সালে কোম্পানিটি সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির লভ্যাংশ বেড়ে হয় ২০ শতাংশ। আলোচ্য বছরে ব্যাংকটি ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০২৪ সালে ব্রাক ব্যাংকের লভ্যাংশ ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আলোচ্য বছরে ব্যাংকটি সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।

’এ’ ক্যাটাগরির ব্রাক ব্যাংকের লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়লেও গত পাঁচ বছরে ইপিএস ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১ সালে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১৪ টাকা ০৯ পয়সা। ২০২২ সালে ব্যাংকটির ইপিএস ৪ টাকা ৫১ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৯.৫৮ টাকা। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির ইপিএস ২ টাকা ১ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৭.৫৭ টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির ইপএস ছিল ৭ টাকা ৫ পয়সা; যা ২০২৫ সালে ৬ টাকা ৯২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বিজনেস আই/

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ