মলদোভা থেকে নরওয়ের রাজধানী অসলো যাওয়ার পথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি বিমান প্রায় একটি ড্রোনের আঘাতে পড়তে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্তোরে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ইউক্রেন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রুশ হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ডের শেষকৃত্যে অংশ নিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী অসলোতে পৌঁছান জেলেনস্কি। গতকাল বুধবার নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে স্তোরে বলেন, ‘মলদোভা থেকে উড্ডয়নের সময় তাঁর বিমানটি প্রায় একটি ড্রোনের আঘাতে পড়েছিল। এটাই তাঁর প্রতিদিনের বাস্তবতা।’
তবে এই তথ্যের সূত্র কী এবং ড্রোনটি বিমানটির কতটা কাছে ছিল, সে বিষয়ে স্তোরে কিছু জানাননি। পরে বুধবার মলদোভা সরকারের এক মুখপাত্রও ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, মঙ্গলবার উড্ডয়নের আগে ঘটনাটি ঘটে এবং এতে একটি রুশ ড্রোন জড়িত ছিল।
মলদোভা সরকারের ওই মুখপাত্র বলেন, ড্রোনের সতর্কতার কারণে কর্তৃপক্ষ দেশটির আকাশসীমা বন্ধ করে দিলে জেলেনস্কির বিমানটির যাত্রা বিলম্বিত হয়। পরে ড্রোনটি মলদোভার ভূখণ্ডে ভূপাতিত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর জেলেনস্কির বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়।
অসলোতে অবস্থানকালে জেলেনস্কি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্তোরের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতা প্রতিরক্ষা শিল্পের নির্বাহীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে ‘ফ্রেয়া’ (FREYJA) নামে পরিচিত একটি ইউরোপীয় অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, বৈঠকে সরকার ও প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং কর্মসূচি থেকে প্রথম বাস্তব ফলাফল পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে সম্মত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রথম বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই। এই বৈঠকের আয়োজন করার জন্য আমি নরওয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির জন্য আমি আমাদের অংশীদারদের ধন্যবাদ জানাই। ইউরোপের আকাশ সুরক্ষিত রাখা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।’
ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বুধবার জানিয়েছেন, দেশটিতে রুশ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইউক্রেন-মলদোভা সীমান্তসংলগ্ন এলাকা এবং দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষও রয়েছেন।


















