সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মইয়ার হাওরে ডিঙ্গি নৌকাডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে বৈরী আবহাওয়া, প্রবল বাতাস ও হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই কয়েকজন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও চারজন নিখোঁজ হন। টানা দুই দিনের উদ্ধার অভিযান শেষে রোববার (২ আগস্ট) সকালে শেষ দুইজনের লাশ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- অরুণ দেবনাথ, সতীন্দ্র দেবনাথ, হেমেন্দ্র দেবনাথ ও অধির দেবনাথ। শনিবার সকাল ১১টার দিকে অরুণ দেবনাথ এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সতীন্দ্র দেবনাথের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রোববার সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযানে হেমেন্দ্র দেবনাথ ও অধির দেবনাথের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় জগন্নাথপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা ডিঙ্গি নৌকায় করে জগন্নাথপুর পৌরসভার পাশের মইয়ার হাওরের বালুচল এলাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠান শেষে রাত প্রায় ৩টার দিকে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বৈঠাখালী এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক দমকা হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ছোট নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নৌকায় থাকা কয়েকজন কোনো রকমে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও চারজন পানির নিচে তলিয়ে যান।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার ভোর থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় শত শত মানুষ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। কিন্তু হাওরের গভীর পানি, কাদামাটি, স্রোত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। এরপরও নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান চালিয়ে একে একে চারজনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।News

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে মইয়ার হাওরসহ আশপাশের হাওরগুলোতে আকস্মিক ঝড়, দমকা হাওয়া ও বড় ঢেউ প্রায়ই সৃষ্টি হয়। গভীর রাতে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের নৌকাই ব্যবহার করেন। তাদের দাবি, হাওরাঞ্চলে নৌযান চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, আবহাওয়ার সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে প্রচার এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে ছোট নৌকা চলাচলে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এদিকে, জগন্নাথপুরের এই নৌকাডুবির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও অপূরণীয় ক্ষতি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


















