ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ারে অস্বাভাবিক দাম বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটির লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে-বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান জনিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ডিএসইর সার্ভেইল্যান্স বিভাগকে এআইভিত্তিক করা হবে। তখন আর কারসাজিকারীরা চাইলেই দুর্বল শেয়ারে কারসাজি করতে পারবে না। কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিক দাম বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটির লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে।”

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এমন একটি বিশেষ ব্যাক অফিস সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে যার ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলো চাইলেও গ্রাহকের তথ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। বাজার পুনর্গঠন ও আস্থা ফেরানোকে অত্যন্ত সহজ কাজ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ডিএসইর সার্ভেইল্যান্স বিভাগকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক করা হবে, যার ফলে কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিক দর বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেটির লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে।

চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, আমি এই কঠিন জায়গায় কেন আসছি, এটি অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন। আমি তাদের বলেছিলাম, গিয়ে দেখি কিছু বদলাতে পারি কিনা। এখন বলছি, এটি খুবই সহজ কাজ।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তাতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবেই। ভবিষ্যতে আপনারা এটি দেখতে পাবেন। ভবিষ্যতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর তদারকিও অনেক বাড়িয়ে দেব। এই বাজারে আস্থা ফিরবেই, ইনশাআল্লাহ।”

মাসুদ খান বলেন, বিগত চার দশকে পুঁজিবাজারের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই পুঁজিবাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। তারা অন্যের কথা শুনে বিনিয়োগ করেন এবং দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করে বারবার প্রতারিত হন।

তিনি বলেন, “আমাদের বিনিয়োগকারীরা দ্রুত বড়লোক হতে চান। তাই ভালো শেয়ারে না গিয়ে দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগকারীদের সঠিকভাবে গাইড করার জন্য মিউচুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। ভারতের শেয়ারবাজারে বাজার মূলধনের তুলনায় মিউচুয়াল ফান্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমরাও এ খাতে গুরুত্ব বাড়াব।”

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান আরও বলেন, “রেগুলেটর ও মার্কেট—দুই দিকই দেখতে হবে। গত বছর যে মার্জিন রুলস করা হয়েছিল, সেটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকটা নিরাশ করেছে। তাই আমরা এটিকে পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি বলেন, “একক কোনো ব্যক্তির স্বার্থে আমি কিছুই করব না। সামষ্টিক প্রয়োজনে যেটি প্রয়োজন হবে, সেটিই করব। আমাদের প্রত্যেকের কাজের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতেও এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সময়ের রোড শোর সমালোচনা করে মাসুদ খান বলেন, “রোড শো কেন করতে হবে? আমরা ভালো করলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমনিতেই আসবে। ফ্লোর প্রাইসের বাজারে বা ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেন আসবেন? এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে।”

পাঁচ ব্যাংকের মার্জার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মার্জার প্রক্রিয়া কয়েক বছর ধরেই চলছে। এর প্রধান নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। যারা এসব ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন, তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সেটি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে সমন্বিতভাবে নিতে হবে।”

ছায়া সংসদে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকটের পেছনে সরকারি ও বিরোধী দলের মনোভাব নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি দলের বক্তব্যের প্রধান বিষয় ছিল ‘দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা’। আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব’কে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। এক নম্বরের ব্যবধানে ‘দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা’ বিষয়টি গৃহীত হয়।

প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে প্রাইম ইউনিভার্সিটি এবং বিরোধী দল হিসেবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশ নেন। বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রাইস, সাংবাদিক মাইনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক হোসাইন শাহাদাত। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।

বিজনেস আই/

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ