ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি তেলের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি সব ধরনের সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (২ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে সরকারি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন, কার্যকর ও গতিশীলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে উপজেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসম্ভব অনলাইনে বা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, এর ফলে কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমবে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জ্বালানি সাশ্রয় হবে।

তবে সবক্ষেত্রেই যে সরাসরি সভা বন্ধ থাকবে এমনটি নয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ ও জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি সভা, কর্মশালা বা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি, একই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল জারি করা পূর্ববর্তী একটি সার্কুলার এই নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহল সরকারের এই উদ্যোগকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির (আইটি) ব্যবহার বৃদ্ধির একটি যুগোপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে একদিকে যেমন সরকারের জ্বালানি খাতের ব্যয় কমবে, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দ্রুত, সহজ ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ