ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় ‘জঙ্গিবাদে জড়িত’ ৩৫ প্রবাসীর বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা

মালয়েশিয়ায় ‘জঙ্গিবাদে জড়িত’ থাকার অভিযোগে ৩৫ বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী পুলিশ এবং তদন্তে উঠে এসেছে তাদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ।

রোববার (৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান এজাহার গ্রহণ করে আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলার বাদী এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) ইনটেলিজেন্স শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল বাতেন। তিনি গত ৫ জুলাই এজাহার জমা দেন।

বিমানবন্দর থানার প্রসিকিউশন কর্মকর্তা এসআই এসএম বখতিয়ার খালেদ জানান, মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন—নজরুল ইসলাম সোহাগ, মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং জাহেদ আহমেদ। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাদের হেফাজতে নেয় এটিইউ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এটিইউ পরিদর্শক কে এম তারিকুল ইসলাম এই তিনজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি হবে।

মোট ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, তারা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় থেকে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। তারা মালয়েশিয়ার আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশে থাকা কিছু নাগরিকের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, প্রচারণা এবং প্ররোচনা চালিয়ে আসছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা স্বেচ্ছায় সংগঠনে চাঁদা প্রদান করতেন এবং ই-ওয়ালেট ও আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ সিরিয়া ও অন্যান্য দেশে পাঠাতেন। একজন সদস্য বছরে প্রায় ৫০০ রিঙ্গিত করে চাঁদা দিতেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এদের কেউ কেউ দেশে ফিরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এতে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এপ্রিল থেকে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ নির্মাণ ও কারখানায় কাজ করতেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে দেশটির আইনে মামলা হয়েছে।

খালিদ ইসমাইল আরও জানান, এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছিল এবং সিরিয়া ও বাংলাদেশে আইএসের জন্য অর্থ পাঠাচ্ছিল।

তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, “এদের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সংযোগ নেই। আমরা মালয়েশিয়া পুলিশের বক্তব্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না।”

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ