ঢাকা, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ন

বিদেশি মিশনে ভাতা বৃদ্ধি করল সরকার

সরকার বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের বৈদেশিক ভাতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

বাংলাদেশের ৬০টি দেশে অবস্থিত ৮২টি মিশনের কর্মীরা নিয়মিত বেতন ও ভাতার পাশাপাশি বৈদেশিক ভাতা পান। বৈদেশিক মুদ্রায় প্রদত্ত এই ভাতা তাদের দেশে থাকার বাড়তি খরচ মেটানোর উদ্দেশ্যে। ভাতা বৃদ্ধির ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা টাকার অঙ্কে ৩৩ কোটির বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, বৈদেশিক ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ২০১২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার বিনিময় হার বিবেচনা করা হয়েছে। তবে আপ্যায়ন ভাতা ও শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি।

ভাতা বৃদ্ধির হার

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভাতার হার তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে প্রস্তাব দিয়েছিল:

  • এ শ্রেণির দেশ: ভাতা বৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশ।
  • বি শ্রেণির দেশ: ভাতা বৃদ্ধি ২৫ শতাংশ।
  • সি শ্রেণির দেশ: ভাতা বৃদ্ধি ২০ শতাংশ।

এই ভাতা বৃদ্ধির ফলে বছরে সরকারকে অতিরিক্ত ২৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও বাজেট ঘাটতির মধ্যে ভাতা বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত কিছুটা বিতর্কিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেছেন, যেখানে সাশ্রয়ের প্রয়োজন, সেখানে ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ভুল বার্তা দিতে পারে।

মিশনগুলোতে ভাতা ব্যবহারে আইন না মানার অভিযোগ রয়েছে। মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণ, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাতে অনিয়মের অভিযোগ।

এদিকে, নতুন এই ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতাও কার্যকর হতে যাচ্ছে। বিদেশি মিশনে কর্মরত কর্মকর্তারা এ দুটি সুবিধাই পাবেন।

নতুন এই ভাতা বৃদ্ধির ফলে মিশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়লেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা। সরকারি ব্যয় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতির জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ