গত তিন মাস সংকোচনের পর অক্টোবরের পর নভেম্বরেও দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় ফিরে এসেছে। সার্বিক পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ৬২.২ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৬.৫ পয়েন্টের বেশি।
অর্থনৈতিক উন্নতির ইঙ্গিত
গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে এই সূচক প্রকাশ করেছে। পিএমআই ৫০-এর ওপরে থাকলে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়, আর ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচনের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
নভেম্বরে পিএমআই মানের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দৃঢ় হওয়ার লক্ষণ বহন করছে।
খাতভিত্তিক পিএমআই সূচকের তথ্য
- উৎপাদন খাত: আগের মাসের তুলনায় ৪.৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬০.৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
- সেবা খাত: ৭.১ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
- কৃষি খাত: আগের মাসের তুলনায় ১৪.১ পয়েন্ট বেড়ে ৬৭.২ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
তবে নির্মাণ খাত কিছুটা সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। অক্টোবরের ৫০.১ পয়েন্ট থেকে ০.৫ পয়েন্ট কমে ৪৯.৬ পয়েন্টে চলে এসেছে। পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণ খাতের সংকোচনের কারণ ইনপুট খরচ এবং বকেয়া ক্রয়াদেশের সমস্যা।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের আড়ালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শিল্প-কারখানায় বিক্ষোভের কারণে অর্থনীতির গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অতীত পটভূমি
গত বছরের ডিসেম্বরে পিএমআই প্রকাশ শুরু হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকেই এটি জনসম্মুখে আসে। পরবর্তী মাসগুলোতে পিএমআই মানের ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। জুলাইয়ে পিএমআই মান সর্বনিম্ন ৩৬.৯ তে নেমে গিয়েছিল। তবে আগস্ট থেকে শুরু করে অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হতে থাকে।
নভেম্বর মাসে পিএমআই মানের বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং সবার জন্য আশাবাদী একটি ইঙ্গিত হয়ে উঠছে।


















