চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ৫৩ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় ব্যয় কমানোর পথে হাঁটছে সরকার। এ কাটছাঁটের মাধ্যমে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং অর্থ সাশ্রয়ের জন্য সরকার কৃচ্ছতা নীতির আওতায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিন্যান্স কাউন্সিল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, এবং এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে, ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট ছিল, যা এবার কমিয়ে ৭ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। বৈঠকের পর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও ২৩ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনবিআর-এর লক্ষ্যপ্রাপ্ত আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে কমে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং মূল্যস্ফীতি রাজস্ব আহরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আদায় এক লাখ এক হাজার ২৮১ কোটি টাকা কমে গেছে।
এদিকে, উন্নয়ন খরচের পরিমাণও কমিয়ে আনতে হচ্ছে। শুরুতে উন্নয়ন বাজেট ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছিল, যা এখন ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, খাদ্য ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা নেই। তবে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎ, পেট্রোল, গ্যাসের ২০ শতাংশ ব্যয় স্থগিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকবে।
অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, “রাজস্ব আহরণ কম হওয়ার কারণে সরকার বাজেট কাটছাঁট করছে। কর ফাঁকি কমানোর উদ্যোগ এনবিআরের অন্যতম অগ্রাধিকারের বিষয় হওয়া উচিত।”
করোনা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং বিশ্ব অর্থনীতির চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতির সংকট আরও বাড়ছে। এসব কারণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের এই কৃচ্ছতা নীতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
রাজস্ব ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক সংকটে সরকারের বড় বাজেট সিদ্ধান্ত।


















