জাপানি কোম্পানিতে গড় মাসিক বেতন ২০২৩ সালের তুলনায় ২ হাজার ৫২৪ ইয়েন বেড়ে চলতি বছর রেকর্ড ১১ হাজার ৯৬১ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দেশটিতে প্রথমবারের মতো গড় মাসিক বেতন ১০ হাজার ইয়েনের সীমা অতিক্রম করেছে। সরকারি এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর জাপান টুডে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় গড় মাসিক বেতন ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানি ব্যবস্থাপক ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনার প্রতিফলন এ পরিস্থিতি। ফলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি সামগ্রিক বেতন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
টানা তৃতীয় বছরের মতো মজুরি বৃদ্ধির পরিমাণ ও শতাংশ দুটোই ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবার। ১৯৯৯ সাল থেকে এ-সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত হয়ে আসছে। ওই সময় থেকে গড় মাসিক বেতনের পরিমাণ এবার সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
জাপানের অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যসংকোচন বড় একটি সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে জাপানের কোম্পানিগুলো বেতন বৃদ্ধিতে বরাবরই অনীহা দেখিয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে যে হারে বেতন বাড়ানো হচ্ছে, তাতে জুতসই অবস্থা ফিরে এসেছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
মে মাসে জাপানের প্রকৃত মজুরি (মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর) রেকর্ড টানা ২৬ মাস কমেছে। জুন ও জুলাইয়ে বাড়লেও আগস্টে তা কমেছে। অর্থাৎ বেতন বৃদ্ধি এখনো ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষকে এখনো লড়াই করতে হচ্ছে।

দেশের বৃহত্তম শ্রমিক ইউনিয়ন এ মাসের শুরুতে আগামী বসন্তে ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা এ বছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সমান। জাপানি ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন ছোট ও মাঝারি কোম্পানির মধ্যে বেতনের পার্থক্য কমাতে সহায়তা করার জন্য এসব কোম্পানির উচ্চতর একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় জুলাই-আগস্টে সর্বশেষ জরিপ পরিচালনা করে। যেখানে ১০০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে, এমন ১ হাজার ৭৮৩টি কোম্পানিতে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। জরিপে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান বেতন বাড়িয়েছে বা পরিকল্পনা করছে, তাদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ২ শতাংশে, যা গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।


















