ফুটবলের নতুন পেলে কিংবা নতুন ম্যারাডোনার আগমনের কথা একসময় বেশ শোনা যেত। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উত্থানের পর সেই রব অনেকটাই কমে আসে। তবে এখন এসে কৈশোর পেরোনোর তারকাদের মধ্যে পড়ন্ত বেলায় থাকা মেসি কিংবা রোনালদোর ছায়া খোঁজা হচ্ছে।
ব্রাজিল ফুটবল দলে নতুন এই ত্রাতা ‘নতুন রোনালদো’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন ভিতর রকি। তার জন্য ৩৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে প্রস্তুত বার্সেলোনা। কিন্তু ১৮ পেরোনো রকির মধ্যে এমন কী আছে, যার পেছনে বার্সা এত টাকা খরচ করতে রাজি?
তবে রকির মধ্যে মেসি বা পর্তুগিজ রোনালদোর নয়, তার মধ্যে অনেকে দেখছে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো ‘ফেনোমেনন’–এর ছায়া। আর রকির স্বপ্ন নেইমারের সঙ্গে খেলা। কৈশোরেই নিজের ঝলক দেখিয়েছেন বলেই রকির নামের সঙ্গে জুড়ে গেছে রোনালদোর নাম।
এর আগেও অনেকের মধ্যে রোনালদোকে খোঁজা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ আর সে মানে পৌঁছাতে পারেননি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রকি কি পারবেন নিজেকে রোনালদো নাজারিওর মানে নিয়ে যেতে? রোনালদোর মতো ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ক্রুজেইরোর হয়ে যাত্রা শুরু করেন রকি। ১৬ বছর বয়সে নিজের প্রথম গোলটিও করেন ক্লাবের হয়ে।
দারুণভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে ক্রুইফ টার্ন, স্টেপওভার এবং দুর্দান্ত কাটে চমকে দিতে পারেন রকি। সবকিছু হুবহু ফেনোমেননের মতো না হলেও অনেক কিছুতেই তার ছাপ রয়েছে। তাই ফেনোমেনোনের সঙ্গে তুলনা শুরু হতেও সময় লাগেনি।

ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর তিমোতেওর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন রকি। বাবা অপেশাদার ফুটবলার ছিলেন, খেলেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনে। নিজে ফুটবলে ভালো কিছু করতে না পারলেও ছেলের প্রতিভাকে ঠিকই চিনতে পেরেছিলেন এবং তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
রকি শুরু থেকেই সহজাত সৃষ্টিশীল ফুটবলার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ১০ বছর বয়সে আমেরিকা মিনেইরোর হয়ে ফুটবলের হাতেখড়ি তার। তারপর ২০১৯ সালে চলে যান ক্রুজেইরোতে। মাত্র দুই মৌসুম বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর ২০২১ সালে ক্লাবের হয়ে অভিষেকও হয়ে যায় তার। শুরুতে বাবার মতো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললেও এরপর ধীরে আক্রমণভাগে খেলতে শুরু করেন।
শেষ পর্যন্ত থিতু হন স্ট্রাইকার হিসেবে। এখন গোল করতেই বেশি পছন্দ রকির। এর মধ্যে ব্রাজিলের জার্সিতেও ইতিহাস গড়েছেন রকি। মরক্কোর বিপক্ষে অভিষেক হওয়ার পর রকি এখন এ শতাব্দীতে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষিক্ত সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। সেই ম্যাচ দিয়ে রোনালদোর পর সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবেও ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে রকির।
ক্রুজেইরোতে নিজেকে পরিণত করে তোলা রকি ক্লাবটিতে নিজের প্রথম পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন ২০২১ সালের মে মাসে। ৯ মাস পরেই মূল দলের হয়ে প্রথম গোল করেন এই ফুটবলার।
দলের এপ্রিল ২০২২- এর মধ্যে ১৬ ম্যাচে ৬ গোল করেন রকি। রকির প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে গত বছরের এপ্রিলে অ্যাথলেটিকো পারানায়েনসে নিজেদের দলবদলের রেকর্ড ভেঙে ৪.৪ মিলিয়ন ইউরোতে রকিকে দলে ভেড়ায়।
এই ক্লাবের হয়ে শুরুতে একাদশে জায়গা পেতে কষ্ট হয়েছে তার। কিন্তু মাঠে যখনই নামার সুযোগ পেয়েছেন প্রমাণ করেছেন নিজেকে। ২০২২ মৌসুমে ৭ গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন রকি। যেখানে কোপা লিভার্তাদারোসের কোয়ার্টার ফাইনালে করা গোলও আছে। একই সময়ে ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক দলেও নিয়মিত খেলেছেন রকি।
সে সময়টাতেই ব্রাজিলের ফুটবল পণ্ডিতরা তাকে ‘নতুন রোনালদো’ তকমা দেন। লাতিন আমেরিকা থেকে তার দ্যুতির খবর ইউরোপে ছড়াতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আগস্ট হতে না হতেই লা লিগা ও প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো নড়েচড়ে বসতে শুরু করে। বিশেষ করে ফেনোমেননের সঙ্গে তুলনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে সে পরিস্থিতিটা বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন রকি। এ ব্যাপারে কিংবদন্তি কোচ লুইস ফিলিপ স্কলারির দারুণ সহায়তাও পেয়েছেন বেশ। রকিকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের সময়টাতে পারানায়েনসের তখনকার কোচ স্কলারি অনেকটা সচেতনভাবেই রয়েসয়ে রকির প্রশংসা করেন।
গত বছরের জুলাইয়ে স্কলারি বলেছেন, ‘সে আরও ভালো করবে। যদি সে নিজের উন্নতি ধরে রাখতে পারে তবে এমন একজন খেলোয়াড় হবে, যার কাছ থেকে ব্রাজিল অনেক আনন্দ পাবে।’


















