ঢাকা, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন

ইউক্রেনের হামলায় নিহত বেড়ে ৮৯, মোবাইল ফোন ব্যবহারকে দায়ী করছে রাশিয়া

রাশিয়া-অধিকৃত দোনেৎস্ক অঞ্চলের মাকিভকাতে একটি সেনা ক্যাম্পে ইউক্রেনের রকেট হামলায় নিহত বেড়ে ৮৯ জনে দাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সামরিক কর্মীদের মোবাইল ফোনের অননুমোদিত ব্যবহারের জন্য এই হামলার জন্য দায়ী করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেন দাবি করেছে, রোববার নববর্ষের প্রথম প্রহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ৪০ রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে। তবে মস্কো বুধবার পর্যন্ত ৬৩ রাশিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে মস্কোর স্বীকার করা একটি একক অভিযানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির ঘটনা এটি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিও বিবৃতিতে বুধবার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সের্গেই সেভরিউকভ বলেন, আমাদের মৃত সৈন্যর সংখ্যা ৮৯ জনে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, মাকিভকা শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে অতিরিক্ত লাশ পাওয়া যাওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।

সেভরিউকভ বলেন, রাশিয়ান সৈন্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এই হামলার জন্য দায়ী ছিল। এটি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, যা ঘটেছিল তার প্রধান কারণ ছিল মোবাইল ফোনের ব্যবহার। যার মাধ্যমে শত্রুরা সৈন্যদের অবস্থান চিহ্নিত করে এবং সহজেই লক্ষবস্তুতে পরিনত হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমার্স) লঞ্চার থেকে চারটি রকেট বিল্ডিংটিতে আঘাত করে এবং ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে।

সেভরিউকভ আরও বলেছেন, এই ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তার ত্রুটির জন্য দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হবে।

এদিকে সামরিক কোয়ার্টারে এধরনের হামলায় রাশিয়ান জাতীয়তাবাদী এবং কিছু আইন প্রণেতাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা ইউক্রেনে মস্কোর কমান্ডারদের সামরিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

একটি টেলিগ্রাম পোস্টে, সাবেক রাশিয়ান ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) অফিসার ইগর গিরকিন বলেছেন, একই ভবনে গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জামগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যেগুলো বিস্ফোরণের শক্তিতে অবদান রেখেছে। গিরকিন এই ক্ষতির জন্য রাশিয়ার ‘অপ্রশিক্ষিত’ জেনারেলদের দায়ী করেছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ