ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

মস্তিস্ক ও হার্টের সমস্যায় মাহসা আমিনির মৃত্যু

হিজাব পরার বাধ্যতামূলক আইন ভঙ্গ করায় ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে আটক ও পরে হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু নিয়ে ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। এতে বলা হয়, তাঁর মৃত্যু পুলিশের মারধরে নয়, বরং অসুস্থতার কারণে হয়েছে। যদিও ২২ বছর বয়সী ইরানি কুর্দি মাহসার পরিবার বলছে, নৈতিকতা পুলিশের মারধরের ফলেই সে মারা গেছে। খবর বিবিসির।

গতকাল শুক্রবার ইরানের ফরেনসিক মেডিসিন অর্গানাইজেশন (এফএমও) এক বিবৃতিতে বলেছে, পরীক্ষায় দেখা গেছে, আঘাতের কারণে নয়, বরং মাহসা আমিনি সেরিব্রাল হাইপোক্সিয়ার কারণে একাধিক অঙ্গের অকার্যতায় মারা গেছেন। তাঁর মস্তিস্ক ও হার্টে সমস্যা হয়েছিল। যদিও, তাঁর পরিবার এর আগে জানায়, সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাহসাকে রাজধানী তেহরানে আটক করা হয়। এর পর তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল বলে এরই মধ্যে অস্বীকার করেছে পুলিশ। অবশ্য, তাঁরা বলেছে, হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল মাহসার। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভে নিহত তরুণী নিকা শাকরামিকে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা নাসরিন শাকরামি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত রেডিও ফারদায় পাঠানো এক ভিডিওতে তিনি মেয়েকে হত্যার জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। যদিও সরকার বলছে, ১৬ বছর বয়সী তরুণী নিকাকে সম্ভবত শ্রমিকরা ভবন থেকে ফেলে দিয়েছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর তেহরানে একটি রাস্তায় প্রতিবাদের সময় নিখোঁজ হয় নিকা। এর ১০ দিন পর মর্গে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

ইরানওয়্যারের খবরে বলা হয়, মাহসা আমিনির মতো পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় মানবাধিকার কর্মী এমাদ হায়দারিও মারা গেছেন। দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করা ইমাদ। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) থাকাকালে তিনি মারা যান।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ