বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে বাংলাদেশের চাওয়া অর্থের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
ব্লুমবার্গ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দুটি দাতা সংস্থাকে ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। প্রত্যেকের কাছে ১০০ কোটি ডলার করে চাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া জ্বালানি মূল্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব যেভাবে অর্থনীতিতে পড়ছে, তা মোকাবেলার জন্য এ অর্থ দরকার বলে বাংলাদেশের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এর আগে গত ২৪ জুলাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর আগাম ব্যবস্থা হিসেবে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণ চায়। এর কয়েকদিন পরই বিশ্বব্যাংক ও এডিবির কাছেও সহায়তা চাইল বাংলাদেশ।
আমদানি বেড়ে যাওয়া ও প্রবাসী আয় কমার কারণে দেশে ডলারের চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে পতন হচ্ছে টাকার মান। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো তুলে নেয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা সংকুচিত হচ্ছে এবং আমদানি ব্যয়ও কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জুলাইয়ে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা রিজার্ভ গত বছরের আগস্টে প্রথমবারের মতো ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

চলতি বছরের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে। সদ্যসমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ দিন রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৩৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।


















