ইউক্রেনে চলমান রাশিয়ার আগ্রাসন ব্যাপক দুর্দশা, মৃত্যু ও ধ্বংসের জন্ম দিয়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবে বোঝা না গেলেও জলবায়ু পরিবর্তনেও এ যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। লাখ লাখ ডলার মূল্যের অস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক ও ট্রাকগুলো সরাসরি কার্বন নিঃসরণে অবদান রাখছে।
যদিও এগুলো প্যারিস লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে হুমকি নয়। বরং যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হুমকি সৃষ্টি করেছে। খবর ডয়েচে ভেলে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। এ যুদ্ধ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিও উন্মোচন করেছে। রুশ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে পশ্চিমা দেশগুলো আরো দূষণকারী উেসর দিকে ঝুঁকছে।
এ অবস্থায় অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সংকটে পড়া দেশগুলোর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা বেড়ে যেতে পারে। কারণ জার্মানির মতো কয়েকটি দেশ জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করার জন্য কয়লা খনি পুনরায় চালু করতে চায়।
পারস্পেকটিভস ক্লাইমেট গ্রুপের জ্যেষ্ঠ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অ্যাক্সেল মাইকেলোয়া বলেন, জি৭ এখন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সম্পর্কিত প্রভাব মোকাবেলায় লড়াই করছে। এ অবস্থায় তাদের জন্য প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো আরো কঠিন হয়ে উঠছে।

গত সপ্তাহে মাইকেলোয়া একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনে যুদ্ধ সম্পর্কিত কার্বন নিঃসরণের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। তিনি সমীক্ষাটির প্রধান ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অপারেশনের নিঃসরণ কেবল আংশিকভাবে উঠে আসে। জাতিসংঘের জলবায়ু লক্ষ্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ নিঃসরণের কেউ দায় নিতে চায় না। তিনি বলেন, সামারিক নিঃসরণ প্রতি বছর কয়েক লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এজন্য দেশগুলোকে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জলবায়ু প্রভাবগুলোকে আরো স্বচ্ছভাবে মোকাবেলা করতে হবে।


















