যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। দেশটি জানিয়েছে, প্রায় সাত সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচকদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক আয়োজনের লক্ষ্যে তারা চেষ্টা চালিয়েছে। গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক দিন বাকি রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আলোচনার কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
চলছে কূটনৈতিক তোড়জোড়, ঠিক হয়নি দিনক্ষণ
লেবাননে যুদ্ধবিরতির এক ঘণ্টার মধ্যেই লঙ্ঘনের অভিযোগ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কে আসবেন, প্রতিনিধিদলের আকার কেমন হবে, কে থাকবেন আর কে চলে যাবেন এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোই ঠিক করবে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আলোচনাগুলো গোপন রাখা। আলোচনার তথ্য আমাদের কাছে যে পক্ষগুলো দিয়েছে, আমরা তা সংরক্ষণ করছি।
চলছে কূটনৈতিক তোড়জোড়, ঠিক হয়নি দিনক্ষণ
মার্কিন মিত্ররা ইরান যুদ্ধে না জড়িয়েও কি বিপদমুক্ত
গত ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘না কোনো অগ্রগতি হয়েছে, না কোনো ভাঙন ঘটেছে। পারমাণবিক ইস্যু আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।’
পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় কূটনৈতিক সফর করছে। এটিকে ‘ইসলামাবাদ প্রক্রিয়া’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার আলোচনাকে এককালীন নয়, বরং চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার দোহায় পৌঁছেছেন। চার দিনের সফরের অংশ হিসেবে তিনি এর আগে জেদ্দা সফর করেন এবং এরপর তুরস্কের আন্তালিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বুধবার একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছান। প্রতিনিধিদলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও ছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং পাকিস্তানের সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই দিনে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও তার সঙ্গে বৈঠক করেন।
ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পাকিস্তানেই হবে। আমরা পাকিস্তানেই আলোচনা করব, অন্য কোথাও নয়। কারণ আমরা পাকিস্তানের ওপর আস্থা রাখি।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এখনো তা বহাল আছে। তবে পরিস্থিতি ক্রমেই চাপে পড়ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষ থেকেই সতর্ক আশাবাদী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসলামাবাদে আবারও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।


















