দখল করে নেওয়া ইউক্রেনের দুটি শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের রুশ পাসপোর্ট দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। পাসপোর্ট হস্তান্তর কার্যক্রম রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খুব দ্রুততার সাথে করছেন।
এদিকে সর্বপ্রথম দখলে নেয়া শহর দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও মেলিতোপোলে রাশিয়ান নাগরিক তৈরির চেষ্টাকে ‘রাশিফিকেশন’ হিসেবে উল্লেখ করে তার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস বলছে, গতকাল শনিবার (১১ জুন) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খেরসনের ২৩ জন অধিবাসীকে প্রথম রাশিয়ান পাসপোর্ট দেয়া হয়। রাশিয়ার পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য হাজার হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক আবেদন করেছে।
তবে নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে তাদের এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার নিযুক্ত সামরিক গভর্নর ভলোদোমির সালদো বলেছেন, খেরসনে আমাদের সব কমরেড যত দ্রুত সম্ভব (রাশিয়ার) পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব পেতে চান।

রাশিয়ান কার্যক্রমকে নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে ইউক্রেন তার কঠোর সমালোচনা করেছে। ইউক্রেন বলছে, পুতিনের এই আদেশ আইনত অবৈধ।
এর আগে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করেছে রাশিয়া। দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে পছন্দমতো ‘গণপ্রজাতন্ত্রে’ পরিণত করেছে। রাশিয়ার এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ এখন আশঙ্কা করছে, এবারের হামলার পর দখল করে নেয়া অঞ্চলগুলোতেও একই প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়রা একবার রাশিয়ার নাগরিক হয়ে গেলে, তাদের ‘নিরাপত্তা’ দিতে হবে ক্রেমলিন এমন দাবি করতে পারবে।
অন্যদিকে খেরসনে ইউক্রেনের মুদ্রা হারিভনিয়ার বদলে রাশিয়ার মুদ্রা রুবল ব্যবহারের আদেশ অমান্য করছে ইউক্রেনের নাগরিকেরা।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মেলিতোপোলের বেশিরভাগ অঞ্চল এখন রুশ সেনাদের দখলে। ক্রিমিয়া ও দখলীকৃত ডনবাসে অঞ্চলে রুবল ব্যবহারে বাধ্য করেছে রাশিয়া। স্থানীয় স্কুলগুলোতে রুশ শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে কিয়েভের নিয়োগ দেয়া কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়েছে রাশিয়া।
নতুন করে দখল করা এলাকাতেও একই কাজ করেছে রাশিয়া। ওদিকে ডনবাস ও সেভেরোদোনেৎস্ক অঞ্চলে ভয়াবহ লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
লুহানস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়োগ দেয়া কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেনের সেনারা এখনো আযট রাসায়নিক প্ল্যান্টসহ সেখানকার শিল্পাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তবে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের গভর্নর বলছেন, রাশিয়ার ক্রমাগত বোমা হামলার জবাব দিতে গিয়ে ইউক্রেনের সেনাদের সামরিক রশদ ফুরিয়ে আসছে।
মাইকোলাইভ অঞ্চলের ভিতালি কিম বলেছেন, রাশিয়ান সেনাবাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে যত দ্রুত সম্ভব দূরপাল্লার কামান ও গোলাবারুদ সরবরাহ করার আহবান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের সদস্যপদ বিষয়ে কথা বলতে প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কির সাথে দ্বিতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিন।
তিনি বলেছেন, আপনারা আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার জন্য অনেক কিছু করেছেন কিন্তু এখনো বেশ কিছু সংস্কারের প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা।
তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনকে প্রার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে কিনা সে নিয়ে ইইউ আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেবে। যা ইইউ সদস্য হওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ। -বিবিসি


















