লাগাতার বিক্ষোভে নতিস্বীকার করে অবশেষে পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার পর কয়েক দিন ধরে চলা বিক্ষোভের মধ্যেও পদ ছাড়তে রাজি ছিলেন না তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়তে হলো তাকে।
গত কয়েকমাস ধরে ভয়ংকর অবস্থা বিরাজ করছে শ্রীলঙ্কা জুড়ে। স্বাধীনতার পর দেশটি সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। দিনের একটা বড় অংশ জুড়ে লোডশেডিং করে রাখা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও আকাশ ছোঁয়া। এই অবস্থায় লঙ্কার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বেড়েছে। সাধারণ মানুষ রাজাপাকসে পরিবারের হাত থেকে শ্রীলঙ্কাকে রক্ষার ডাক দিয়েছেন।
এপ্রিল থেকে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের কাছে ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা নিজেকে ‘অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া’ ঘোষণা করে। মন্ত্রিসভার সবাই একযোগে পদত্যাগ করেন। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে জোরদার আন্দোলন শুরু হয়।
ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি আবারও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। বিক্ষোভ দমনে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয় প্রশাসনকে। নতুন সরকার গড়তে বিরোধীদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে বিরোধীরা তাতে সাড়া দেননি।
১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট পার করছে দেশটি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ায় বাইরের দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারছে না সরকার।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কা সরকারের তহবিলে রয়েছে দুই দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ববাজার থেকে নেওয়া ঋণের তুলনায় অতি নগণ্য। শ্রীলঙ্কার ঋণের মধ্যে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ডে রয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এরপরই জাপান- শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া তাদের ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আর চীন সরকার দিয়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। আমদানির জন্য বিপুল এই রিজার্ভ ঘাটতি দেশটিতে জ্বালানি, শক্তি, খাদ্য এবং ওষুধের সংকটের জন্ম দিয়েছে।


















