গত কয়েকদিন ধরেই বেশ সমালোচনা হচ্ছিল হালের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। আগের মত বল নিয়ে ক্ষিপ্রবেগে ঢুকে পড়তে পারছিলেন না প্রতিপক্ষ রক্ষণে, সেই নিঁখুত ফিনিশিংয়ের মিলছিল না দেখা। এমনকি বাজে ফর্মের কারণে সাইডবেঞ্চে বসে দেখতে হয়েছে দলের খেলা। তবে এসব কাল রাতেই অতীত করে ফেলেছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
কি চমকে গেলেন? আরও অবাক করা তথ্য হল এই তালিকায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি লিওনেল মেসি ঢের পিছিয়ে সিআর সেভেনের চেয়ে। তবে ৩৪ বছর বয়সী মেসির সামনে সুযোগ রয়েছে বুট তুলে রাখার আগে ক্যারিয়ারের শেষভাগে থাকা রোনালদোকে টপকে যাওয়ার। গতকাল টটেনহামের বিপক্ষে দারুণ এক হ্যাটট্রিকে ৮০৭ গোল নিয়ে বনে গেছেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় কাল ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে রালফ রাংনিকের শিষ্যরা। খেলার ৯ম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে টটেনহাম ডিফেন্ডার ডি বক্সের ভিতর রোনালদোর শট হাত দিয়ে প্রতিহত করলেও পেনাল্টি দেননি রেফারি।
মিনিট তিনেক পর অবশ্য আর আটকে রাখা যায়নি পর্তুগিজ সুপারস্টারকে। ফ্রেডের দারুণ ব্যাকহিল খুঁজে পায় রোনালদোকে। স্বভাবসুলভ লং শটে টপ কর্ণার দিয়ে হুগো লরিসকে পরাস্ত করেন সিআর সেভেন। ১-০ তে এগিয়ে যায় রেড ডেভিলরা।
১৬ মিনিটে পল পোগবাও হতে চেয়েছিলেন রোনালদো। দারুণ ড্রিবলিংয়ে বক্সের কাছাকাছি চলে আসলেও ফরাসি তারকার নেয়া দূরপাল্লার শটটি খুঁজে পায়নি লক্ষ্য। এদিকে ম্যানইউর পেনাল্টির দাবি না মানলেও ৩৪ মিনিটে ঠিকই স্পার্সকে পেনাল্টি দিয়ে বসেন রেফারি জনাথন মস। ডেজান কুলুসেভস্কির ক্রস অ্যালেক্স টেলেসের হাতে গিয়ে লাগলে সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় টটেনহাম।

পেনাল্টিতে গোল করতে কোন ভুল করেননি অভিজ্ঞ হ্যারি কেইন। তবে স্পার্স ভক্তদের উল্লাস চলেনি বেশিক্ষণ। খেলার ৩৮ মিনিটে আবারও তাদের স্তব্ধ করে দেন রোনালদো। জর্ডান সাঞ্চোর ক্রসে আলতো করে পা ছুঁয়ে ছাড়িয়ে যান অস্ট্রিয়ান কিংবদন্তি জোসেফ বিকানকে। নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ২-১ এ।
অবশিষ্ট সময়ে স্পার্স গোল করতে ব্যর্থ হলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ম্যানইউ। দ্বিতীয়ার্ধেও একই রকম বিবর্ণ থাকে টটেনহাম। ৬৬ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করার একটা সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। পর্তুগিজ তারকাকে দারুণ এক থ্রু পাস বাড়ান সাঞ্চো। দৌড়ে বক্সে ঢুকেই জোরালো শট নেন রোনালদো। কিন্তু বিধি বাম, লরিস ঠেকিয়ে দেন সেই শট।
তবে ৭২ মিনিটে নিরবতা ছেয়ে আসে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়ের দিয়ে বসেন আত্মঘাতী গোল। ২-২ গোলে সমতা ফিরে ম্যাচে। তবে ৮১ মিনিটে কর্ণার থেকে রোনালদোসুলভ এক হেডে গোল করে ভক্তদের আবারও উল্লাসে ভাসান সিআর সেভেন। রোনালদোর শেষ সময়ের গোলে ৩-২ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাংনিকের শিষ্যরা।


















