ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ন

সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়লেন লিটন-মুশফিক

আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে দুই শ ছাড়ানো জুটি গড়েছেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। শক্ত হাতে হাল ধরে ২০২ রানের জুটি গড়েছেন তারা। এটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তৃতীয় উইকেট জুটি।

রেকর্ড গড়া সেই জুটি ভাঙ্গে ১২৬ বলে ১৩৬ করে লিটনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে। পার্টনারের বিদায়ের পরের বলে ৮৬ করে ফেরেন মুশফিক। জুটিতে তারা বল খেলেছেন ১৮৪টি।

দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দেড়শ ছোঁয়ার পথে ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু ৪৭তম ওভারে আফগান পেসার ফরিদ আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ১২৬ বলে ১৩৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলা ডানহাতি ওপেনার। ইনিংসটি খেলার পথে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি।

একই পেসারের পরের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন সেঞ্চুরির দিকে ছুটতে থাকা মুশফিকও।

বিদায়ের আগে ডানহাতি এই ব্যাটার ৯৩ বলে ৯ চারে ৮৬ রান করেছেন। তাদের জুটিও থেমেছে ২০২ রানে।
১৮৬ বলে গড়া এই জুটিই বাংলাদেশ ইনিংসের প্রাণ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০৬ রান।

বাংলাদেশের হয়ে ২০২ রানের জুটিটি তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ। এর আগের সেরা জুটি ছিল তামিম ও মুশফিকের ১৭৮ রান ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

আর সব জুটি মিলিয়ে এটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পঞ্চম সেরা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেরা জুটি। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ জুটি তামিম ও লিটনের ২৯২ রানের।

২০২০ সালের মার্চে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ জুটি গড়েন তামিম ও লিটন।

এর আগে এর আগে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ প্রত্যাবর্তনে আফিফ হোসাইন ও মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাটে ভর করে জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। গত ম্যাচের একাদশ নিয়েই এই ম্যাচে খেলতে নেমেছে টাইগাররা। অপরদিকে আফগানিস্তানের একাদশে এসেছে তিন পরিবর্তন। একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন ইবরাহিম জাদরান, গুলবাদিন নাইব ও ইয়ামিন আহমাদজাই। সুযোগ পেয়েছেন রিয়াজ হাসান, ফরিদ আহমেদ মালিক ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ধীরগতির শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। গত ম্যাচে বল হাতে চার উইকেট নেওয়া ফজল হক ফারুকির বল দেখেশুনে খেলছিলেন তারা। তবে সপ্তম ওভারে এসে আর পারলেন না তামিম ইকবাল। ফারুকির এলবিডব্লিওর ফাদে পড়ে বিদায় নেন তিনি। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। ২৪ বলে ১২ রান করে সাঝঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

তামিমের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নেমে থিতু হয়ে ব্যাট করতে থাকেন সাকিব। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ষষ্ঠদশ ওভারে রশিদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ২০ রান সংগ্রহ করে বিদায় নেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। এরপর ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসকে সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম। দুজনের ব্যাটে রানবন্যা বয়ে যায়। ৮ চারে ৬৫ বলে অর্ধশতক তুলে নেন লিটন আর মুশফিক ফিফটির দেখা পান ৬০ বলে।

ফিফটির দেখা পাওয়ার লিটনের ব্যাট আরও চওড়া হতে থাকে। ব্যক্তিগত ৮৭ রানে একবার জীবন পাওয়া এই ব্যাটার পরে সেঞ্চুরি তুলে নিতে খুব বেশি দেরি করেননি। ১০৭ বলেই ছুঁয়ে ফেলেন পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এরপর ব্যক্তিগত ৬৯ রানে আফগান উইকেটরক্ষক স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ মিস করায় জীবন পান মুশফিকও। তবে লিটন সেঞ্চুরি পেলেও মুশফিক পাননি। তবে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৩ হাজারি ক্লাবে পা রেখেছেন তিনি। তার আগে আছেন শুধু তামিম (১৪১৭৫ রান)।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ