তাইওয়ানের চারপাশে ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপেই ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই পদক্ষেপ নেয় চীন।
চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সিসিটিভি জানিয়েছে, তাইওয়ানের আশেপাশের ছয়টি এলাকায় সমুদ্র ও আকাশ পথে লাইভ-ফায়ার ড্রিল স্থানীয় সময় দুপুর ১২ টায় শুরু হয়েছে, যা ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, তাইওয়ানের একাধিক অঞ্চলে তীরের মাত্র ২০ কিলোমিটার মধ্যে মহড়া চালাচ্ছে চীন। চীনের সামরিক বাহিনী, পিপলস লিবারেশন আর্মিকে উল্লেখ করে সংবাদপত্রটি বলেছে, এই প্রথম পিএলএ তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে লাইভ দূরপাল্লার আর্টিলারি চালাবে।
এদিকে তাইওয়ান বলেছে চীনের মহড়াগুলো জাতিসংঘের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। তাইওয়ানের অভিযোগ, চীন আঞ্চলিক স্থান আক্রমণ করেছে এবং তার আকাশ ও সমুদ্র অবরোধ করে রেখেছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সান লি-ফ্যাং বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীনের মহড়ার কিছু এলাকা তাইওয়ানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে।

সাত শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ জি৭ চীনের এই পরিকল্পিত মহড়ার নিন্দা করেছে। এক বিবৃতিতে জি৭ বলেছে, তাইওয়ান প্রণালীতে আক্রমণাত্মক সামরিক কার্যকলাপের অজুহাত হিসাবে পেলোসির সফর ব্যবহার করার কোন যুক্তি নেই।
বুধবার তাইওয়ানের মেরিটাইম এবং পোর্ট ব্যুরো উত্তর, পূর্ব এবং দক্ষিণ অঞ্চলে সামুদ্রিক জাহাজগুলিতে সতর্কতা জারি করেছে। জাহাজগুলিকে সামরিক মহড়ার এলাকা এড়াতে এবং বিকল্প রুট ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য তাইওয়ানে পেলোসির আগমনের পর মঙ্গলবার রাতে সামরিক কূটকৌশল শুরু করে চীন এবং পরে পেলোসির সফরের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।


















