ইউক্রেনের মারিওপোলের প্রশাসনকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু ইউক্রেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের মানুষ লড়াই চালিয়ে যাবেন।
শহরটিতে থাকা ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ বাহিনী অস্ত্র ত্যাগ করলে আজ সোমবার (২১ মার্চ) বেসামরিকদের শহরটি থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বলে প্রস্তাবে বলেছে রাশিয়া। কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরী নিয়ে আত্মসমর্পণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে ইউক্রেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, মারিওপোলে প্রায় তিন লাখ মানুষ আটকা পড়ে আছে। তাদের সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে আর শহরটিতে ত্রাণের প্রবেশও আটকে দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক ধরে রুশ বোমাবর্ষণের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ছাড়াই শহরটির বাসিন্দারা টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
গতকাল রবিবার রুশ জেনারেল মিখাইল মিজিএনসেভ আত্মসমর্পণ প্রস্তাবের বিস্তারিত জানিয়ে মস্কোর স্থানীয় সময় আজ ভোর ৫টার মধ্যে শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মস্কোর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে রাশিয়ার সেনারা নিরাপদ করিডোর খুলে দেবে, প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনীয় সেনাদের ও ‘বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের’ অস্ত্র সমর্পণ করার জন্য ও শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য।

রুশ বাহিনী জানিয়েছে, এর দুই ঘণ্টা পর সড়কগুলো থেকে মাইন অপসারণ শুরু করবে তারা এবং তা শেষ হলে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য মানবিক ত্রাণবাহী বহরকে নিরাপদে শহরটিতে প্রবেশ করতে দেবে। লড়াইয়ের মধ্যেই তিন হাজার ৯৮৫ জনকে মারিউপল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেনারেল মিজিএনসেভ।
কিন্তু ইউক্রেন তা মানতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছে, কোনোভাবেই রাশিয়ার এই আহ্বানে তারা সায় দেবে না। লড়াই জারি থাকবে।


















