ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ন

করপোরেট ও দ্বৈত কর কমানোসহ চার প্রস্তাব বিএমবিএ’র

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট ও দ্বৈত কর কমানোসহ চারটি প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের কাছে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে সংগঠনটি। এ সময় বিএমবিএর সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমানসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিএমবিএ জানিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে পুঁজিবাজার বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যান্য আর্থিক সূচক ভালো থাকার পরও পুঁজিবাজারে তা সঠিকভাবে দৃশ্যমান নয়। পুঁজিবাজারকে পিছনে রেখে উন্নতির অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। তাই, পুঁজিবাজারের গতিশীলতা আনয়নে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলাফল লক্ষনীয়। কিন্তু, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ফিসক্যাল ও রাজস্ব পলিসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনতে আসন্ন বাজেটে বিএমবিএর প্রস্তাবগুলো বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

বাজেট প্রস্তাবের বিষয়ে বিএমবিএ জানিয়েছে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২.৫০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ৩০ শতাংশ। তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলিকম, ট্যোবাকো ইত্যাদি খাত ছাড়া। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর রেয়াত ৭.৫ শতাংশ আছে। ফলে, এ সুবিধা উদ্যোক্তাদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য উৎসাহিত করে না। তাই, তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। কারণ, ৭.৫ শতাংশ কর সুবিধা দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানিসহ ইত্যাদিকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। পুঁজিবাজার নিয়ে আলোচনা আসলে প্রথমেই আসে ভালো কোম্পানির শেয়ারের অভাব। এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কেননা, দেশে রেজিস্টার্ড লিমিটেড কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। কিন্তু, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ৩৪৮টি, যা অত্যন্ত নগণ্য।

অপরদিকে, বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বৃহৎ করের আওতাধীন আছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর হার ৩৭.৫ শতাংশ, যা হতাশাজনক। বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৬টি মার্চেন্ট ব্যাংক আছে। পুঁজিবাজারের ধীর গতি, করোনা পরিস্থিতি এবং ব্যবসার সীমাবদ্ধতার কারণে বেশিরভাগ মার্চেন্ট ব্যাংকের অপারেটিং খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় মার্চেন্ট ব্যাংকের বৃহৎ করের আওতায় রাখা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো কর হার নির্ধারণ করা অযৌক্তিক। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকা হুমকির সম্মুখীন। তাই, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে বৃহৎ করের আওতায় যুক্ত করে ভুল ব্যবস্থাপনায় ফেলা হয়েছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর হার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি তা সাধারণ সার্কেলে এসেসমেন্ট করার জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে।

বিএমবিএর বাজেট প্রস্তাবে আরও বলা হয়, করপোরেট কর কর্তনের পর লভ্যাংশ দেওয়া হয়। লভ্যাংশ দেওয়ার সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কর্তন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আবার লভ্যাংশ গ্রহীতার ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্নের সময় তার ওপর প্রযোজ্য হারে কর দিতে হয়। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ গ্রহণ না করে রেকর্ড তারিখের আগেই শেয়ার বিক্রয় করে দেয়, যা পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তুলে। এভাবে কর প্রদান দ্বৈত কর নীতির আওতায় পড়ে। এক্ষেত্রে অগ্রিম করকে চূড়ান্ত কর হিসাবে বিবেচনা করার জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এছাড়া, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার এক। তাই, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার হ্রাস করে ১০ শতাংশ করার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে। এর ফলে সরকারের মোট ভ্যাট কমবে না। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা আছে, যারা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত না হয়ে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছে। এজন্য পুঁজিবাজারের গতিশীলতা ও রাজস্ব বেশি পরিমাণ আদায়ের লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ