বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পূবালী ব্যাকের জিএম ইন্দ্রমোহনের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছেন পূবালী ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা। লিখিত এ অভিযোগ করায় হয়রানিমূলক বদলি করা হয়েছে। শুধু কি তাই; গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে ঐ নারী কর্মকর্তা পদত্যাগ করতেও বাধ্য হয়েছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে অশোভন আচরণ, অশালীন গালিগালাজের অভিযোগ করায় বেসরকারি খাতের পূবালী ব্যাংকের নারী কর্মকর্তা ফেরদৌসী সুলতানা হয়রানিমূলক বদলি করা এবং অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
ওই নারীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, তাকে অশোভন আচরণ ও অশালীন গালিগালাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ উল্টো তাকে হয়রানিমূলক বদলি করেছে। মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত ভাবে এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন এবং পুনরায় চাকরি করার আবেদন করেছেন।
ব্যাংকের সফটওয়্যার ডেভলমেন্ট বিভাগের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ফেরদৌসী সুলতানা লিখিত অভিযোগে বলেন, ২০০৮ সাল থেকে আমি পূবালী ব্যাংকের সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট বিভাগে কর্মরত ছিলাম। গত ২২ নভেম্বর ২০২১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। যার শিরোনাম ছিল ‘নারী সহকর্মীর সাথে অশোভন আচরণ ও অশালীন গালিগালাজ প্রসঙ্গে।
আমার করা অভিযোগের বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ও অন্য আরেকজন জেনারেল ম্যানেজার গত ১ ডিসেম্বর আমাকে দেখা করতে বলেন। আমি তার সঙ্গে দেখা করি।

পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর ২০২১, অফিস চলাকালীন সময়ে ৫ টা ৩০ মিনিটে আমাকে একটি বদলি আদেশ দেয়া হয়। সেখানে উল্লেখ ছিল পরবর্তী কার্যদিবস অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর সোমবার আমাকে আইসিটি অপারেশন ডিভিশনে জয়েন করতে বলা হয়। মাত্র ৩ মিনিট সময় দিয়ে আমাকে বদলি করা হয় এবং সফটওয়্যার বিভাগে কর্মরত থাকার কারণে আমার কখনোই বদলি হয় নাই। এটা ছিল শাস্তিমূলক। ওই বিভাগের টিম লিডার হিসেবে আমি কর্মরত ছিলাম এবং ৩০ মিনিটে আমাকে বদলি করা হয় এবং যা আমাদের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল না এমন বিভাগে। এছাড়াও বদলির সঙ্গে সঙ্গে আমার আইডি ব্লক করে দেয়া হয়।
ফেরদৌসী সুলতানা লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, ঘটনার দিন ইন্দ্রমোহন সূত্রধর শুধু আমাকে গালিগালাজ করেননি বরঞ্চ ওনার অঙ্গভঙ্গিও ছিল অত্যন্ত বাজে ধরনের।
এসব কারণে আমি ৮ ডিসেম্বর ১৪ বছরের চাকরি জীবন থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হই। ৯ ডিসেম্বর আমার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।
ফেরদৌসী সুলতানা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি ও চাকরির পরিবেশ ফেরত পেতে আবার চাকরি করার আবেদন করেন।
এদিকে জেনারেল ম্যানেজার ইন্দ্রমোহন সূত্রধরের বক্তব্য জানতে তাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনাটির তদন্ত করছে পূবালী ব্যাংক।
ফেরদৌসী সুলতানা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তির দাবি ও চাকরির পরিবেশ ফেরত পেলে আবার চাকরি করবেন বলেও জানা যায়।
এদিকে জেনারেল ম্যানেজার ইন্দ্রমোহন সূত্রধরের বক্তব্য জানতে তাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে ঘটনাটির তদন্ত করছে পূবালী ব্যাংক।


















