পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের উৎপাদন বন্ধ থাকা কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে বিলুপ্ত (Liquidation) না করে পুনরুজ্জীবিত (Revival) ও চালু রাখার জন্য বেশ কিছু আর্থিক, পরিচালনাগত ও নিয়ন্ত্রক বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়:
১. কৌশলগত বিনিয়োগকারী গ্রহণ ও পর্ষদ পুনর্গঠন (Strategic Investor & Board Reconstitution) নতুন স্পন্সর/পরিচালক গ্রহণ: অদক্ষ বা ব্যর্থ উদ্যোক্তাদের বদলে নতুন মূলধন ও পরিচালন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কৌশলগত বিনিয়োগকারী (Strategic Investor) যুক্ত করে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা।
বিএসইসি (BSEC) পরিচালনা পর্ষদ হস্তক্ষেপ: নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতিক্রমে স্বাধীন পরিচালক (Independent Directors) নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনায় পেশাদার দল এনে বন্ধ কারখানা চালুর পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
২. ঋণ পুনর্গঠন ও ইক্যুইটিতে রূপান্তর (Debt Restructuring & Debt-to-Equity Swap) ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে সুদের হার কমানো, দীর্ঘমেয়াদি গ্রেস পিরিয়ড নেওয়া এবং এককালীন সেটেলমেন্ট (OTS) সুবিধা গ্রহণ করা। ডেট-টু-ইক্যুইটি সোয়াপ: কোম্পানির বকেয়া ব্যাংক ঋণকে নতুন সাধারণ শেয়ার বা অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারে (Preference Shares) রূপান্তর করে ব্যাংকের দায় কমানো এবং ব্যালেন্স শিট শক্তিশালী করা।
৩. একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (Mergers & Acquisitions – M&A) লাভজনক কোম্পানির সাথে মার্জার: একই খাতের বা অন্য কোনো সচল ও লাভজনক কোম্পানির সাথে বন্ধ থাকা কোম্পানিকে একীভূত (Merger) করে মূলধন ও উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। রিভার্স মার্জার (Reverse Merger): কোনো সম্ভাবনাময় অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যাকডোর এন্ট্রি নিতে পারে, যা কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু করে।

৪. নতুন মূলধন সংস্থান (Fresh Capital Injection) রাইট শেয়ার বা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট: বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য রাইট শেয়ার ইস্যু অথবা প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ-সম্পদশালী (HNWI) বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন চলতি মূলধন (Working Capital) সংগ্রহ করা। বন্ড বা অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু: সুনির্দিষ্ট মেয়াদে লভ্যাংশ বা সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেফারেন্স শেয়ার বা জিরো-কুপন বন্ড ছেড়ে নতুন অর্থসংস্থান করা।
৫. চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ও ইজারা প্রদান (Contract Manufacturing & Leasing) কারখানা ইজারা (Leasing Out): কোম্পানির জমি, অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতি অন্য কোনো সচল প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া দিয়ে নিয়মিত নগদ প্রবাহ (Cash Flow) তৈরি করা। কনট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং: অন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের জন্য ফি-ভিত্তিক পণ্য উৎপাদন (Toll / Contract Manufacturing) শুরু করা, যা অলস পড়ে থাকা প্ল্যান্ট সচল করে অপারেটিং খরচ কভার করে।
৬. অব্যবহৃত সম্পদ বিক্রয় ও পুনর্নিয়োগ (Asset Monetization) অলস সম্পদ বিক্রি: মূল উৎপাদন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা অব্যবহৃত জমি, পুরাতন যন্ত্রপাতি বা অতিরিক্ত সম্পদ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ শোধ করা এবং মূল প্ল্যান্টের আধুনিকায়ন (BMRE) করা।
৭. ব্যবসায়িক খাতের রূপান্তর (Business Pivot & Diversification) খাত পরিবর্তন (Sectoral Pivot): নিয়ন্ত্রক সংস্থা (BSEC) এবং শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনক্রমে পুরনো অলাভজনক ব্যবসার ধরণ বদলে সম্পূর্ণ নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে (যেমন: ডিজিটাল লজিস্টিকস, রিনিউয়েবল এনার্জি বা আইটি সেবা) ব্যবসায় রূপান্তর করা।
লেখক: হেলাল ইউ চোধুরী সাবেক ফাইনান্সিয়াল এডভাইজর, পিএলসি


















