ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ন

পুঁজিবাজারকে আরও ভাইব্রেন্ট করতে কমোডিটি মার্কেট স্থাপন করা জরুরি: সিএসই এমডি

পুঁজিবাজারকে আরও ভাইব্রেন্ট করার জন্য কমোডিটি মার্কেট স্থাপন করা জরুরি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার। মার্কেট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তিন ধরনের কাঠামো (যথা- রেগুলেটরি, টেকনোলজিকাল এবং ইকোসিস্টেম) স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)  চট্টগ্রামস্থ প্রধান কার্যালয়ে “ডাইভারসিফিকেশন অফ বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেটঃ প্রসপেক্ট অফ কমোডিটি এক্সচেঞ্জ” শীর্ষক এওয়ারনেস ও নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রামের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এবং এর সম্পর্কিত মূল উপস্থাপনায় সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম সাইফুর রহমান মজুমদার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কমোডিটি মার্কেটের জন্য টেকনোলজিকাল কাঠামো স্থাপনের সাথে আমরা আমাদের পুরো ট্রেডিং সিস্টেমও আপডেট করেছি এবং নতুন কাঠামোতে বর্তমান ইকুইটি মার্কেট, ডেরিভেটিভস মার্কেট এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে যুক্ত করেছি।  বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য হলো, কমোডিটি মার্কেটের ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহায়তা বিশেষভাবে প্রয়োজন ।

এওয়ারনেস ও নলেজ শেয়ারিং  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সিএসইর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান, মির্জা সালমান ইস্পাহানি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সিএসইর পরিচালক মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সেমিনারে সিএসইর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান, সিএফএ, জিএম এন্ড হেড অফ আইসিটি ডিভিশন, মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন,জিএম এন্ড কনভেনার, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রোজেক্ট, মোঃ মর্তুজা আলম, জিএম এন্ড হেড অফ বিজনেস এন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট, মোহাম্মদ মনিরুল হক,ডিজিএম এন্ড হেড অফ লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট, একেএম শাহরোজ আলম  এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান, সিএফএ ।

মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের কমোডিটির মার্কেট অসম্পূর্ণ । তবে পণ্যের মূল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ সঠিকভাবে করা গেলে কমোডিটি মার্কেট সুগঠিত মার্কেটে রূপান্তরিত হবে। এক্ষেত্রে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হচ্ছে সঠিক সমাধান । বিশ্বের যেসব দেশে  ইতিমধ্যে কমোডিটি বাজার  রয়েছে সেগুলোর  বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে একটি অর্থনীতির সামগ্রিক পরিমণ্ডলে কমোডিটি মার্কেটের অস্তিত্ব এবং কার্যক্রম অর্থনীতির ইকোসিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি সুসংঘটিত বাজার ব্যবস্থা বিনিয়োগকারী এবং দেশের জন্য আস্থার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। বাংলাদেশে যত দ্রুত একটি কার্যকর কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হবে, তত দ্রুত এর সুফল অর্থনীতির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে বিস্তৃত হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রধান অতিথি জনাব মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, সিএসই সব সময় নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনার ব্যাপারে অগ্রগামী । কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের কার্যক্রম প্রায় শেষ প্রান্তে। মার্কেট প্রস্তুতি এবং ইকোসিস্টেম তৈরির কাজও করছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এবং অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন প্রোডাক্ট আনয়ন এবং এর ডাইভারসিফিকেসন বাস্তবায়ন করা অতীব প্রয়োজন। কমোডিটি মার্কেট স্থাপিত হলে পণ্য উৎপাদনকারী, ভোগকারী এবং এর সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সকলে উপকৃত হবে এবং অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎকর্ষ সাধিত হবে। আমরা কমোডিটি মার্কেট নিয়ে খুব আশাবাদী এবং কমোডিটি মার্কেট চালু হলে পুঁজিবাজারও লাভবান হবে।

বিজনেস আই/

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ