ঢাকা, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানিযোগ্য পণ্য হবে কৃষিপণ্য: কৃষিমন্ত্রী

মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আগামীতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানিযোগ্য পণ্য হবে কৃষিপণ্য। মার্কেটে সারের যে চাহিদা রয়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সার মজুত আছে। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো, কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল আয়োজিত মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার কৃষি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ড চালু হলে আপনি কত কানি জমিতে আলু রোপণ করেছেন, তা সরকারের রেকর্ডে থাকবে। আপনার কী পরিমাণ সারের প্রয়োজন, সেটিও সরকারের রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে। সেই অনুযায়ী আলু তোলার আগেই সরকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলতে পারবে। এতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এই কার্ডের মাধ্যমেই কৃষকের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম বলেন, ‘সাতটি জেলার ৩১টি উপজেলার ৬৩৩টি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ২০২৩ সালে ৩০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার এই প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬৫ হাজার পরিবার সরাসরি সুফল পাবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ২০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদীভাঙনকবলিত অঞ্চলের মানুষ ভিটেমাটি ও সম্পদ হারিয়ে যাতে শহরমুখী হয়ে না যায়, তারা যেন চরাঞ্চলে থেকেই পশুপালন, মাছ চাষ ও কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।’

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খান ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম ভিপি মাসুম, আহসান উল্লাহ, ইসহাক আলী, মুহাম্মদ মাসুদ ফারুকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সুফলভোগী খামারিদের মধ্যে ২৫টি বকনা বাছুর এবং প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে গোখাদ্য বিতরণ করা হয়। পরে অন্য একটি প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন মন্ত্রী। এরপর মাথাভাঙ্গা খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ