ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ন

পদত্যাগ করছেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগ করেছেন। স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামসের বিরল ধরনের অস্থি ক্যানসার ধরা পড়ার পর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। আগামী ৩০ জুন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।

শুক্রবার (২২ মে) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় গ্যাবার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। পরে রয়টার্স, সিবিএস নিউজ এবং অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমও বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পদত্যাগপত্রে ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তুলসী গ্যাবার্ড লিখেছেন, “আমার ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে এবং গত দেড় বছর ধরে জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, সে জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।”

তিনি জানান, তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি অত্যন্ত বিরল ধরনের বোন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সামনের সপ্তাহ ও মাসগুলোতে তাকে কঠিন শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেও উল্লেখ করেন গ্যাবার্ড।

চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, “এই মুহূর্তে আমাকে জনসেবার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে, যাতে আমি সার্বক্ষণিকভাবে আমার স্বামীর পাশে থাকতে পারি এবং এই কঠিন সময়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দিতে পারি। তিনি সবসময়ই আমার শক্তির জায়গা ছিলেন।”

পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গ্যাবার্ডের কাজের প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, তুলসী গ্যাবার্ড দায়িত্ব পালনকালে “অসাধারণ কাজ” করেছেন এবং প্রশাসন তাকে মিস করবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান উপ-পরিচালক অ্যারন লুকাস অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড পরে রিপাবলিকান শিবিরে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দায়িত্ব পালনকালে গ্যাবার্ডের অবস্থান ও কিছু বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরান, রাশিয়া এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন বিষয়ে তার অবস্থান নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে কেবল পারিবারিক পরিস্থিতির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও গ্যাবার্ডের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার স্বামীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন প্রশাসনের বিভিন্ন সদস্য।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ