জিততে হলে গড়তে হতো বিশ্ব রেকর্ড। সকালে ওয়ানডে মেজাজের ব্যাটিংয়ে মোহাম্মাদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের মনে ভয় ঢুকিয়ে সেই সম্ভাবনাও জাগাল পাকিস্তান। কিন্তু পারল না শেষ পর্যন্ত। তাইজুল ইসলাম জুটি ভাঙার পরের ওভারেই মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে বড় বাধা দূর করলেন শরিফুল ইসলাম। শেষ বাধাও ভাঙলেন তাইজুল। পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয় হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দিল বাংলাদেশ।
সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্কানকে ৭৮ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান।
দুই ম্যাচের সিরিজ টাইগাররা জিতে নিল ২-০ ব্যবধানে।
ঘরের মাঠে এই প্রথম পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আগের ২ ম্যাচের সিরিজটি তারা জিতেছিল পাকিস্তানের মাটিতে।
সকালের সেশনে ১১. ২ ওভারের খেলাতেই বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জে জিতল। ৯৫.২ থেকে ৯৭.২ ওভারের মধ্যে (১৩ বল) বাকি ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।

১২০ রানে ৬ উইকেট নেন তাইজুল। টেস্টে এ নিয়ে ১৮ তম বার ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেট নিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে খেলা শুরু করে পাকিস্তান। বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জয় পেতে সফরকারীদের দরকার ছিল আরও ১২১ রান, আর বাংলাদেশের ৩ উইকেট।
মাঠ ভেজা থাকায় পঞ্চম ও শেষ দিন নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পর শুরু হয় খেলা। নাহিদ রানার ওভারে শুরুতে নড়বড়ে হলেও পরে পরিস্থিতি সামলে ৭৪ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান ও সাজিদ।
সাজিদকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ বানান তাইজুল। ৩৬ বলে ২৮ রান করে ফেরেন সাজিদ।
এরপর আর রান যোগ করতে পারেনি পাকিস্তান। পরের ওভারে শরিফুলের প্রথম বলেই গালিতে মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ৯৪ রান করে ফেরেন রিজওয়ান।
এরপর দরকার ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। পরের ওভারে সেটাও সেরে ফেলেন তাইজুল। ছক্কা মারতে গিয়ে ওয়াইড লং অনে তানজিদকে ক্যাচ দেন খুররম শাহজাদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৩৭, আগের দিন ৩১৬/৭) ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ (রিজওয়ান ৯৪, সাজিদ ২৮, খুররাম ০, আব্বাস ০*; তাসকিন ১২-১-৬২-০, শরিফুল ১২-৪-২৯-১, নাহিদ ১৮-৩-৭১-২, মিরাজ ২০-১-৬২-১, তাইজুল ৩৪.২-৪-১২০-৬, মুমিনুল ১-০-৩-০)
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী
সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ২-০তে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: লিটন কুমার দাস (১২৬ ও ৬৯)
ম্যান অব দ্য সিরিজ: মুশফিকুর রহিম (২৫৩ রান)


















