প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ গাজীপুর সফরে আসছেন। এ সফর কেন্দ্র করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। গাছা ও সফিপুরসহ পুরো গাজীপুর মহানগরীকে নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল আকর্ষণ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ। সকালে তিনি সফিপুর আনসার একাডেমিতে বাহিনীর রাষ্ট্রীয় কুচকাওয়াজ ও জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন এবং বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
আনসার একাডেমির অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের গাছা এলাকায় ‘জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ ধরনের বিশেষায়িত ভবন বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এই ইনস্টিটিউট দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর কেবল উন্নয়নমূলক কর্মকা-েই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর এক আবেগ ও ইতিহাস। গাজীপুরের মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার শিশুকালের মধুর স্মৃতি। একই সঙ্গে এ শহরে প্রোথিত রয়েছে তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফর অনুষ্ঠিত হবে। আর আগমন উপলক্ষে গাজীপুর সিটির রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে গাজীপুরকে ঢাকা জেলা থেকে আলাদা করে নতুন ‘মহকুমা’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সেই ঐতিহাসিক মহকুমা ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন।
শহীদ জিয়া গাজীপুরকে মহকুমা ঘোষণা করে এ অঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয় ও উন্নয়নের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই জেলা একটি অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক হাবে পরিণত হয়েছে।
শহীদ জিয়ার সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কারণে গাজীপুরের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার পরিবারের প্রতি রয়েছে এক গভীর আত্মিক টান এবং আজন্ম কৃতজ্ঞতা। ফলে তাদেরই প্রিয় সন্তান ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সর্বস্তরের জনতা।

















