কর্পোরেট নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে “Women on Boards (WOB)” শীর্ষক একটি অনবোর্ডিং সেশনের আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় যৌথভাবে আয়োজিত এ কর্মশালা গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আইসিএবি, আইসিএমএবি, এসিসিএ এবং বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় নারী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার। তিনি বলেন, কর্পোরেট পরিচালনা পর্ষদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তার মতে, বোর্ডে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, কর্পোরেট বোর্ডে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দক্ষ নারী পেশাজীবীদের একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন পেশাগত ফোরামে সক্রিয় থাকার, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মতামত তুলে ধরার এবং প্রশ্ন করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় কর্পোরেট সুশাসন ও নেতৃত্ব বিষয়ক বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ সেশন পরিচালনা করেন খ্যাতনামা পেশাজীবী ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা।

আইএফসি সাউথ এশিয়ার কর্পোরেট গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজরি লোপা রহমান পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা, পরিচালকদের দায়িত্ব ও আইনগত দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কর্পোরেট সুশাসন কাঠামো, সাসটেইনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ড, ESG চর্চা এবং কার্যকর বোর্ড পরিচালনা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আর্থিক সুশাসন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর কাউন্সিল সদস্য, জেন্ডার ইনক্লুশন অ্যান্ড লিডারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, “Women on Boards” উদ্যোগটি আইএফসির Integrated Environmental, Social and Governance (iESG) Project-এর অংশ, যা ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতে সুশাসন চর্চা জোরদার করা, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা। বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে কার্যকর বোর্ড পরিচালনা শক্তিশালী করার বিষয়টিকে এ উদ্যোগে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ডিএসইর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মো. আবিদ হোসেন খান, এফসিএ বলেন, দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো দ্রুত এগিয়ে গেলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শক্তিশালী নেতৃত্ব। তার মতে, বৈচিত্র্যময় বোর্ড ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, টেলিযোগাযোগ ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের সফল নেতৃত্ব ইতোমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
এখন প্রয়োজন কর্পোরেট বোর্ডরুমে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে তাদের মেধা, দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।


















