ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ন

হরমুজে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের পেতে রাখা সমুদ্রের মাইন অপসারণের কাজ শুরু করতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

তবে তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম এমন অভিযানের ঘোষণা এলো। এর কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বলেছেন, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে প্রণালিটি ‘পরিষ্কার করার’ কাজ শুরু করেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।

সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘আজ আমরা একটি নতুন জলপথ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহকে উৎসাহিত করতে শিগগিরই এই নিরাপদ পথটি সমুদ্র পরিবহন শিল্পের সাথে ভাগ করে নেওয়া হবে, যাতে বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলতে পারে।’

এটি মূলত ওই অঞ্চলে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য একটি নিরাপদ পথ হিসেবে কাজ করবে।

এই অভিযানে অংশ নেওয়া যুদ্ধজাহাজ দুটি হলো ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি। তবে সেন্টকম জানায়, আগামী দিনগুলোতে আরও মার্কিন বাহিনী, এমনকি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনও এই অভিযানে যুক্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ‘জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘কোনো জাহাজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর।’

পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তারা আরও জানায়, নির্দিষ্ট শর্তে শুধুমাত্র বেসামরিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ