ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফোনালাপ হয়েছে। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন।

গত মাসে (মার্চের শুরুতে) সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করার পর লেবাননে নিহতের সংখ্যা ১,৯০০-এরও বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক, শিশু, স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলের বড় ধরনের বিমান হামলায় একদিনেই দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।

পটভূমিতে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত। ওই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর ২ মার্চ হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক রকেট হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুরু থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলও আলোচনায় সম্মত হয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়, বরং সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায়। অন্যদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবারের এই বৈঠক সফল হলে ১৯৮৩ সালের পর ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতির আগে হামলা বন্ধ এবং হিজবুল্লাহ ইস্যুতে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

এদিকে, ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার ওপরও লেবাননের পরিস্থিতি প্রভাব ফেলছে। ইরান লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে, যা বর্তমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ