ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র, দাবি কিম জং উনের

উত্তর কোরিয়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সমর্থন জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বুধবার জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সম্প্রতি মোজতবা খামেনিকে ইসলামি বিপ্লবের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে, এবং পিয়ংইয়ং এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়। মোজতবা খামেনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী খামেনি নিহত হন।

মুখপাত্র আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তি ধ্বংস করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে। একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করা এই ধরনের হামলার মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য।” উত্তর কোরিয়া আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে ‘গ্যাংস্টারসুলভ আচরণ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে

এদিকে কেসিএনএ আরও জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম রণতরি চো হাইওন থেকে কৌশলগত ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিম জোর দিয়ে বলেন, শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতা বজায় রাখা এবং সম্প্রসারণের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কিমের উপস্থিতিতে রণতরি ‘চো হাইওন’- থেকে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। গত সপ্তাহে তিনি দেশটির নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে পিয়ংইয়ংয়ে তাতে তেমন প্রভাব পড়েনি। উত্তর কোরিয়া বারবার উল্লেখ করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে এ ধরনের অস্ত্র তাদের জন্য অপরিহার্য।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে কিম জং উন জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি পিয়ংইয়ংকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে, তবে দুই দেশ একযোগে চলতে পারবে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ