বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর উদ্যোগে আজ ৮ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ডিএসইর মাল্টিপারপাস হলে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএসইস’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারবৃন্দ, ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও পরিচালকবৃন্দ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ডিএসই’র কর্মকর্তাবৃন্দ।
ডিএসই’র প্রধান পরিচালক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অৰ্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অনন্য ও অসামান্য। বাংলাদেশের বাজারভিত্তিক ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামোর ভিত্তি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই স্থাপিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে বেসরকারি খাতে যে ব্যাপক সম্প্রসারণের সূচনা হয়, তার সুফল আজ দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত অবদান তাঁর প্রয়াণের পর আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তাঁর প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতা, যাঁর অবদান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৯৪ সালের ২ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় দশটি কোম্পানিকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি, যা শিল্প ও কর্পোরেট খাতকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মানবিক রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী মতের প্রতিও সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, বিশেষ করে গত ১৫ বছরের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ ও মানুষের স্বার্থে অবিচল ছিলেন। জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর আপসহীন ভূমিকা আজও প্রেরণার উৎস। পুঁজিবাজার উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি এ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলেই আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি।
ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, একজন মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তাঁর মৃত্যুর পর মানুষের উপস্থিতি ও আবেগে। তাঁর জানাজায় কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি কত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর প্রতি ভিন্ন মত ও ভিন্ন পথের মানুষের মধ্যেও গভীর শ্রদ্ধা ছিল। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী বা একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; সময়ের পরিক্রমায় তিনি যেন আমাদের সমাজ ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। এমনটি মনে হয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের গভীরে, আমাদের সামাজিক চেতনা ও অনুভূতির ভেতর গভীরভাবে মিশে গেছে। একজন মানুষ হিসেবে তাঁর যেমন গুণ ছিল, তেমনি স্বাভাবিকভাবেই কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। তবে বিগত কয়েক দিনে সারা দেশে তাঁর প্রতি যে বিপুল ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রমাণ করে—সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাতিজা মোঃ শামস ইস্কান্দার সকলের কাছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করেন।

সবশেষে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।


















