অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার উসমান খাজা। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই খেলবেন নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট, যে মাঠে প্রায় দেড় দশক আগে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। ৮৭ ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে সিডনি টেস্টে মাঠে নামবেন ৩৯ বছর বয়সী খাজা।
সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে খাজা বলেন, ‘পুরোপুরি না হলেও এটা নিয়ে আমি ভাবছি কিছু দিন ধরে। এই সিরিজ শুরুর সময়ই মাথায় ঘুরছিল, এটিই হবে আমার শেষ সিরিজ। র্যাচেলের (স্ত্রী) সঙ্গে বেশ আলোচনা করেছি এটা নিয়ে। যদিও দুয়ার পুরোপুরি বন্ধ করিনি, কারণ এটাও জানতাম যে, খেলা চালিয়েও যেতে পারি। অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডকে (কোচ) যখন কয়েক দিন আগে বললাম, তখনও তিনি ভাবছিলেন, আমাকে আগামী বছর ভারত সফরে রাখা যায় কিনা।’
অবসর ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনস্থলে বাবা তারিক খাজার সঙ্গে আলিঙ্গন করছেন উসমান খাজা।
স্ত্রী র্যাচেল, দুই মেয়ে, বাবা ও স্বজনদের পাশে নিয়ে খাজা আরও বলেন, ‘আমি খুবই খুশি যে নিজের ইচ্ছায় বিদায় বলতে পারছি কিছুটা মর্যাদা নিয়ে এবং সিডনিতে শেষ করতে পারছি, যে মাঠকে আমি ভালোবাসি। সিরিজের শুরুর সময়টা ছিল বেশ কঠিন। এরপর অ্যাডিলেডের স্কোয়াডে ফেরা এবং শুরুতে একাদশে জায়গা না পাওয়া, সেটিই ছিল আমার জন্য ইঙ্গিত যে, সময় হয়েছে সামনে তাকানোর।’
বছরের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারাল ম্যানচেস্টার সিটিবছরের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারাল ম্যানচেস্টার সিটি
চলতি অ্যাশেজ সিরিজে শুরুটা সহজ ছিল না খাজার জন্য। পিঠের চোটের কারণে কিছু ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হয়। এক পর্যায়ে দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন। তবে সুযোগ ফিরে পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের মতো করে অবসর ঘোষণার সুযোগ এনে দেয়। লাল বলে তিনি ৬ হাজারের বেশি রান করেছেন, হাঁকিয়েছেন ১৬টি সেঞ্চুরি। গত চার বছরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। তবে মাঝেমধ্যেই ফর্ম হারালে তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। কেন তিনি অবসর নিচ্ছেন না- এমন প্রশ্নও উঠেছে।

অবসর ঘোষণার দিনে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাজা, ‘তাকে (কোচকে) বলেছিলাম, কোনো পর্যায়ে যদি মনে হয় আমার অবসর নেওয়া উচিত, তাহলে সরাসরি বলুন। কোনো সমস্যা নেই। আমি ঝুলে থাকব না। সেটা আমার কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর ব্যাপার। কারণ জানতাম, লোকে আমার দিকে আঙুল তুলছে এবং বলছে যে, আমি স্বার্থপর হয়ে টিকে আছি। কিন্তু আমি নিজে থেকে দলে থেকে যাইনি। ম্যাকডোনাল্ড বারবার বলেছেন, “আমি চাই তুমি থেকে যাও। শ্রীলঙ্কা সফরে ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তোমাকে আমাদের প্রয়োজন।’


















